বাড়িবিশ্বভারতে মসজিদ-মাদ্রাসায় বুলডোজার অভিযান বন্ধের দাবি, তিন দফা প্রস্তাব জমিয়তের

ভারতে মসজিদ-মাদ্রাসায় বুলডোজার অভিযান বন্ধের দাবি, তিন দফা প্রস্তাব জমিয়তের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বুলডোজার দিয়ে উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ এবং অভিন্ন দেওয়ানি বিধি বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড পুরোপুরি প্রত্যাখ্যানের দাবি জানিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ। সম্প্রতি হরিয়ানার নুহ জেলার মেওয়াতে অনুষ্ঠিত সংগঠনটির বার্ষিক পরিচালনা পরিষদের সভায় এই দাবিগুলো উত্থাপন করা হয়। মাওলানা মাহমুদ আসাদ মাদানির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই দুই দিনের সভায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রায় দুই হাজার প্রতিনিধি, আলেম ও বিশিষ্ট ব্যক্তি অংশ নেন। সভায় মূলত ধর্মীয় স্থাপনা রক্ষা, মাদ্রাসার আইনি সুরক্ষা এবং ব্যক্তিগত আইনের স্বাধীনতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও প্রস্তাব গৃহীত হয়।

মসজিদ রক্ষার বিষয়ে জমিয়তের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মসজিদ কেবল একটি সাধারণ স্থাপনা নয়, এটি মুসলমানদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও সাংবিধানিক স্বাধীনতার বাস্তব প্রকাশ। বিভিন্ন অঞ্চলে মসজিদ, ঈদগাহ ও দরগাহ নিয়ে বিরোধ এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া সেগুলো ভেঙে ফেলার প্রবণতা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। কোনো স্থাপনা অবৈধ হলেও সংশ্লিষ্টপক্ষকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে এবং আইন লঙ্ঘনকারী কর্মকর্তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। এ ছাড়া, উপাসনালয়ের ঐতিহাসিক চরিত্র রক্ষায় ১৯৯১ সালের উপাসনালয় বিশেষ বিধান আইনের কঠোর প্রয়োগ দাবি করেছে সংগঠনটি।

মাদ্রাসাগুলোর বিরুদ্ধে হয়রানি ও অপপ্রচার বন্ধের আহ্বান জানিয়ে জমিয়ত জানিয়েছে যে, স্বীকৃতি ও নিবন্ধনের নামে সংখ্যালঘু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অপ্রয়োজনে বিতর্কের মুখে ফেলা হচ্ছে। তবে একই সঙ্গে মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদকে জমির দলিল, অনুমোদিত নকশা, আবাসিক শিক্ষার্থীদের নথি এবং আর্থিক হিসাব স্বচ্ছতার সঙ্গে সংরক্ষণের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি সভায় অভিন্ন দেওয়ানি বিধি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করা হয়। সংগঠনটির মতে, ভারতের মতো বহুধর্মীয় ও বহুসাংস্কৃতিক দেশে একক আইনি কাঠামো চালুর উদ্যোগ দেশের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে ধর্মীয় স্থাপনা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা ব্যক্তিগত আইন নিয়ে মতপার্থক্য থাকতেই পারে, তবে তা সমাধানের জন্য আইনের শাসন এবং নিরপেক্ষ বিচার প্রক্রিয়া বজায় রাখা জরুরি। প্রশাসনিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে বিচারিক প্রক্রিয়ার বিকল্প তৈরি করা কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। একই সঙ্গে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের সমস্ত আইনি নথিপত্র ও আর্থিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে। জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের এই অবস্থান ভারতের ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়গুলোর অধিকার রক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্কে একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments