বাড়িজীবনযাপনইরাসমাসের পথে এক চিকিৎসকের যাত্রা

ইরাসমাসের পথে এক চিকিৎসকের যাত্রা

লাইফস্টাইল ডেস্ক: চিকিৎসক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করলেও কাজের অভিজ্ঞতার সুবাদে চিকিৎসাবিজ্ঞানের গণ্ডি পেরিয়ে জনস্বাস্থ্যের প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় ডা. জারিন তাসনিমের। প্রখ্যাত ইরাসমাস মুন্ডুস বৃত্তি অর্জন করে তিনি বর্তমানে ইউরোপের উদ্দেশ্যে দেশ ছেড়েছেন এবং স্পেনের ওভিয়েদো শহরে নিজের নতুন শিক্ষাজীবন শুরু করেছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই মর্যাদাপূর্ণ বৃত্তির আওতায় শিক্ষার্থীরা মহাদেশের বিভিন্ন দেশের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার অনন্য সুযোগ পেয়ে থাকেন। চিকিৎসাজীবনের ব্যস্ততা ও নানা স্মৃতির বোঝা পেছনে ফেলে তিনি যখন নতুন ক্লাসের উদ্দেশ্যে রওনা হন, তখন তাঁর মনে এক মিশ্র অনুভূতির জন্ম হয়েছিল।

পেশাগত জীবনের প্রথম ধাপে কাজের সুবাদে মাঠপর্যায়ের নানা বাস্তবতার মুখোমুখি হন এই চিকিৎসক। ২০২০ সালে ইন্টার্নশিপ শেষ করার পর তিনি দিনাজপুরে আইসিডিডিআরবির একটি ক্লিনিক্যাল গবেষণায় যুক্ত হন এবং পরবর্তীতে সেভ দ্য চিলড্রেনের হয়ে রংপুরে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্য কার্যক্রমে অংশ নেন। এই অভিজ্ঞতাগুলো তাঁকে বুঝিয়ে দেয় যে রোগীকে শুধু চিকিৎসাসেবা দেওয়াই যথেষ্ট নয়, বরং একজন মানুষ কেন অসুস্থ হচ্ছেন তার পেছনে সামাজিক ও পরিবেশগত কারণগুলোও গভীরভাবে জড়িত। বিশেষ করে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁর চিন্তাধারায় বড় ধরনের পরিবর্তন এনে দেয়।

বাস্তুচ্যুত মানুষের শারীরিক ও মানসিক সংকটের বিষয়টি খুব কাছ থেকে দেখার পর চিকিৎসকের ভূমিকার অর্থ তাঁর কাছে সম্পূর্ণ বদলে যায়। তিনি অনুধাবন করেন যে সংকটময় পরিস্থিতিতে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করাই তাঁর আসল লক্ষ্য। এই উপলব্ধি থেকেই তিনি দুর্যোগকালীন জনস্বাস্থ্য বিষয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য ইরাসমাস মুন্ডুস জয়েন্ট মাস্টার্স প্রোগ্রামে আবেদন করার সিদ্ধান্ত নেন। দীর্ঘ প্রস্তুতি ও নিজের অভিজ্ঞতাকে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করার মাধ্যমেই তিনি এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বৃত্তি অর্জন করতে সক্ষম হন।

স্পেনের ওভিয়েদো দিয়ে এই শিক্ষাযাত্রা শুরু হলেও তাঁর গন্তব্য কেবল একটি দেশে সীমাবদ্ধ নয়, বরং পরবর্তীতে তাঁকে সুইডেনের কারোলিন্সকা ইনস্টিটিউটেও পড়াশোনা করতে হবে। বিভিন্ন দেশের সংস্কৃতি, ভিন্ন স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং নতুন শিক্ষকদের সান্নিধ্যে আসার ফলে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি আরও প্রসারিত হবে বলে তিনি আশাবাদী। চিকিৎসকের পরিচয় অক্ষুণ্ণ রেখেই তিনি এখন বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে প্রমাণভিত্তিক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার ব্রত নিয়ে এগিয়ে চলেছেন।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments