বাড়িবাংলাদেশবাক্স্বাধীনতা ক্ষুণ্নের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই, রাষ্ট্রদ্রোহিতার বিধান নিয়ে রিট খারিজ

বাক্স্বাধীনতা ক্ষুণ্নের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই, রাষ্ট্রদ্রোহিতার বিধান নিয়ে রিট খারিজ

আইন-আদালত ডেস্ক: সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক দাবি করে দণ্ডবিধির ১২৪ক ধারার অধীনে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ ও শাস্তির বিধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদন সরাসরি খারিজ করে দিয়েছেন উচ্চ আদালত। বিচারপতি রাজিক-আল-জলিল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেছেন। রিট আবেদনকারী আইনজীবী ইশরাত হাসান আদালতের পক্ষ থেকে চার পৃষ্ঠার এই পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন এবং রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে আপিল করা হবে বলে জানিয়েছেন।

চলতি বছরের শুরুতে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯৬ ধারার সঙ্গে ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ১২৪ক ধারা অসাংবিধানিক ও কার্যকারিতাহীন ঘোষণা করার আর্জি জানিয়ে এই রিটটি দায়ের করেছিলেন। রিট আবেদনকারীর মূল যুক্তি ছিল যে, রাষ্ট্রদ্রোহিতার অপরাধের যে সংজ্ঞা এবং শাস্তির বিধান এই ধারায় নির্ধারণ করা হয়েছে, তা দেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে নাগরিকদের যে চিন্তা, বিবেক এবং বাক্স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে তার ওপর অযৌক্তিক ও অসামঞ্জস্যপূর্ণ প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে।

মূলত ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ১২৪ক ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি যদি মৌখিক বা লিখিত বক্তব্য, কিংবা কোনো চিহ্ন বা দৃশ্যমান উপস্থাপনার মাধ্যমে আইনসম্মতভাবে প্রতিষ্ঠিত সরকারের বিরুদ্ধে ঘৃণা বা অবজ্ঞা তৈরি করার চেষ্টা করেন কিংবা অসন্তোষ উসকে দেন, তবে তার জন্য যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। এই ধারার ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, সরকারের কোনো কাজের সমালোচনা করা অপরাধ নয়, যদি না তার মাধ্যমে সরকারের প্রতি সরাসরি অবজ্ঞা বা অসন্তোষ ছড়ানোর উদ্দেশ্য থাকে।

হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ আদেশে বলা হয়েছে, সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদের দ্বিতীয় দফায় নাগরিকদের বাক্স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিত করা হলেও রাষ্ট্রের নিরাপত্তার স্বার্থে তাতে যুক্তিসংগত বিধিনিষেধ আরোপের সুযোগ রাখা হয়েছে। আদালত উল্লেখ করেছেন যে, এই ধারার কারণে কোনো নির্দিষ্ট নাগরিক বা ব্যক্তি বাক্স্বাধীনতার অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছেন কিংবা মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়ে কোনো আইনি পদক্ষেপের মুখোমুখি হয়েছেন—এমন কোনো সুনির্দিষ্ট বা জোরালো অভিযোগ রিট আবেদনে তুলে ধরা হয়নি।

আদালত মনে করেন যে, পর্যাপ্ত ভিত্তি বা সুনির্দিষ্ট অভিযোগের অনুপস্থিতিতে এই রিট আবেদনটির কোনো বাস্তব সারবত্তা নেই, যার ফলে এটি খারিজের যোগ্য। আদালতে রিটকারী আইনজীবী নিজেই শুনানিতে অংশ নেন, অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জামিলা মমতাজ উপস্থিত ছিলেন।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments