বাড়িরাজনীতিক্রসফায়ার শুরু হলে দলের একটা লোককেও খুঁজে পাবেন না: বিএনপিকে হাসনাত আবদুল্লাহ

ক্রসফায়ার শুরু হলে দলের একটা লোককেও খুঁজে পাবেন না: বিএনপিকে হাসনাত আবদুল্লাহ

রাজনীতি ডেস্ক: জাতীয় নাগরিক পার্টির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন যে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ দেশ নামক বাহনটির ইঞ্জিন পুরোপুরি নষ্ট করে দিয়েছে। তাই কার্যকর রাষ্ট্র সংস্কার ছাড়া দেশের স্বাভাবিক গতিশীলতা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। যশোর শহরের মুড়লি মোড়ে ১১ দলীয় ঐক্যের পক্ষ থেকে আয়োজিত এক লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, তারেক রহমানকে একটি ফিটনেসবিহীন গাড়িতে তুলে দেওয়া হয়েছে, যা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিরই প্রতিফলন।

বর্তমান সরকারের উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি ক্রসফায়ার বা বিচারবহির্ভূত হত্যা পুনরায় শুরু করে, তবে ক্ষমতাসীন দলেরই কাউকেও খুঁজে পাওয়া যাবে না। তাঁর মতে, চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজির সঙ্গে জড়িতদের যদি এই ব্যবস্থার মুখোমুখি করা হয়, তবে তার বড় অংশই পড়বে নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের ওপর। যদিও দলের সবাই অপরাধের সঙ্গে যুক্ত নন, তবে অপরাধে জড়িতরা সবাই নির্দিষ্ট দলের সঙ্গেই সম্পৃক্ত বলে দাবি করেন তিনি। পাশাপাশি দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়ে উল্টো ভিন্নমত দমনের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বেকারত্ব ও কর্মসংস্থান সংকট নিয়ে তীব্র সমালোচনা করে এই নেতা জানান, তরুণ সমাজ পড়াশোনা শেষ করে চাকরির জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরলেও কাজের কোনো সংস্থান হচ্ছে না। বিদেশ থেকে কর্মসংস্থানের ভুয়া প্রতিশ্রুতি প্রচার করা হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাপান বা মালয়েশিয়া থেকে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের কথা বলা হলেও বাস্তবে তার কোনো ভিত্তি মেলেনি। সাধারণ মানুষ দুবেলা অন্ন ও নিরাপদ জীবনের নিশ্চয়তা চায় উল্লেখ করে তিনি সরকারকে হুঁশিয়ার করেন যে, দাবি পূরণ না হলে জনগণ ফের রাজপথে নেমে আসবে।

রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচনের আগে নানা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও ব্যাংকিং খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এখনো প্রশ্নবিদ্ধ নিয়োগ চলছে। সোনালী, রূপালী, জনতা ও অগ্রণী ব্যাংকের মতো রাষ্ট্রী ব্যাংকগুলোতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের লোক বসানো হলেও ঋণখেলাপিদের নিয়ন্ত্রণ করার কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। যশোর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুলের সভাপতিত্বে ওই পথসভায় আরও বক্তব্য দেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান, খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments