বাড়িজীবনযাপনপ্রবীণদের সুস্থ রাখতে দূরকরতে হবে একাকিত্ব

প্রবীণদের সুস্থ রাখতে দূরকরতে হবে একাকিত্ব

স্বাস্থ্য ডেস্ক: আমাদের সমাজে প্রবীণ নাগরিকদের শারীরিক সুস্থতার পাশাপাশি মানসিক সুস্থতার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে অনেক সময় বয়স্ক ব্যক্তিদের মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টি উপেক্ষিত থেকে যায়, যা তাদের সামগ্রিক জীবনযাত্রাকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করে। বিশেষ করে জীবনের শেষ প্রান্তে এসে বহু প্রবীণ মানুষ মারাত্মক নিঃসঙ্গতা বা একাকিত্বের শিকার হন। এই মানসিক চাপ তাদের শারীরিক অসুস্থতাকেও আরও বাড়িয়ে তোলে। তাই তাদের জীবনের মান উন্নত করতে হলে এই একাকিত্বের সমস্যাটির কার্যকর সমাধান করা অত্যন্ত জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বয়স্ক মানুষেরা কেবল অর্থবিত্ত কিংবা বস্তুগত সুখের মাধ্যমে ভালো থাকতে পারেন না। অনেক প্রবীণ ব্যক্তির পর্যাপ্ত ধনসম্পদ এবং আরাম-আয়েশের উপকরণ থাকলেও তাঁরা তীব্র একাকিত্বে ভুগে থাকেন। পরিবার ও সমাজের মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ এবং স্নেহ-ভালোবাসার অভাব তাদের মানসিকভাবে দুর্বল করে দেয়। বস্তুগত সমৃদ্ধি কখনোই মানসিক শান্তির বিকল্প হতে পারে না, বরং প্রিয়জনদের সান্নিধ্য ও আন্তরিকতাই প্রবীণদের আনন্দময় জীবন নিশ্চিত করতে পারে।

পরিবার এবং সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা যদি প্রবীণদের পর্যাপ্ত সময় দেন এবং তাঁদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন, তবে এই নিঃসঙ্গতা অনেকটাই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। অবসর সময়ে তাঁদের বিভিন্ন সামাজিক ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত রাখতে হবে, যেন তাঁরা নিজেদের সমাজের বোঝা না ভেবে বরং মূল্যবান অংশ মনে করেন। নাতি-নাতনি ও পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত আড্ডা এবং কুশল বিনিময় প্রবীণদের মনে নতুন প্রাণশক্তি জোগাতে সাহায্য করে।

পরিশেষে, প্রবীণ নাগরিকদের অবমূল্যায়ন না করে তাঁদের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞানকে মূল্যায়ন করা আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব। রাষ্ট্রীয় এবং সামাজিক পর্যায়ে প্রবীণদের কল্যাণে বিভিন্ন বিনোদনমূলক কেন্দ্র, ক্লাব এবং কাউন্সেলিং সেবার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় যদি প্রবীণদের চারপাশের এই একাকিত্বের প্রাচীর ভেঙে ফেলা যায়, তবে তাঁরা একটি সুন্দর, আনন্দময় এবং মর্যাদাপূর্ণ জীবন উপভোগ করতে পারবেন।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments