প্রযুক্তি ডেস্ক: ইতালির একটি ছোট গির্জা থেকে দুই দশক আগে চুরি হওয়া ১৭ শতকের একটি মূল্যবান চিত্রকর্ম অবশেষে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় উদ্ধার করা হয়েছে। ২০০৪ সালের আগস্ট মাসে নেপলসের নিকটবর্তী একটি ধর্মীয় উপাসনালয় থেকে সাধ্বী সেন্ট অ্যাগনেসের প্রতিকৃতিটি হারিয়ে গিয়েছিল। প্রায় এক মিটার উচ্চতার এই ঐতিহাসিক চিত্রে এক তরুণীকে মেষশাবক ও খেজুরপাতা হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যেত। দীর্ঘ কুড়ি বছর ধরে ছবিটির কোনো সন্ধান মেলেনি এবং এটি চিরকালের মতো হারিয়ে গেছে বলেই ধারণা করা হয়েছিল।
সম্প্রতি একটি প্রদর্শনীতে ছবিটির সন্ধান মিললেও এর রূপ সম্পূর্ণ বদলে ফেলা হয়েছিল। চোরেরা ছবির মূল বিষয়বস্তু পরিবর্তন করে তরুণীর হাতের মেষশাবকের পরিবর্তে একটি পাণ্ডুলিপি বসিয়ে দেয় এবং মাথার চারপাশের জ্যোতির্বলয় মুছে ফেলে। এমনকি ছবির ওপর নতুন রঙের প্রলেপ দিয়ে এর আসল পরিচয় গোপন করার চেষ্টা করা হয়েছিল যাতে সাধারণ চোখে কেউ একে চিনতে না পারে। ঐতিহ্যগতভাবে বর্ণনামূলক অনুসন্ধান বা মানুষের চোখের পক্ষে এই পরিবর্তিত রূপ ভেদ করে মূল চিত্রকর্মটি খুঁজে বের করা অসম্ভব হয়ে পড়েছিল।
এই জটিল সমস্যার সমাধানে ইতালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সুরক্ষা পুলিশ ইউনিটের প্রযুক্তিবিদরা সোয়াডস নামের একটি বিশেষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থা তৈরি করেন। ২০২৩ সালের নভেম্বরে চালু হওয়া এই এআই প্রযুক্তি শুধু শব্দের ওপর নির্ভর না করে ছবির রং, অবয়ব ও সূক্ষ্ম কারুকার্য বিশ্লেষণ করতে সক্ষম। ইতালির পুলিশের বিশাল তথ্যভান্ডারের সঙ্গে তুলনা করে এই যন্ত্রটি পরিবর্তিত চিত্রকর্মটির আসল পরিচয় শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। এর পরই আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা অভিযান চালিয়ে চিত্রকর্মটি উদ্ধার করতে সমর্থ হন।
প্রযুক্তির এই আধুনিক ব্যবহারের ফলে কেবল এই চিত্রকর্মটিই নয়, বরং গত কয়েকমাসে আরও বহু প্রাচীন নিদর্শন ও শিল্পকর্ম উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই বিশেষ ব্যবস্থা চালুর পর থেকে তিন শতাধিক বড় চিত্রকর্ম ও ভাস্কর্য এবং লক্ষাধিক প্রাচীন মুদ্রা ও পাণ্ডুলিপি উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, যেসব শিল্পকর্মের চেহারা পরিবর্তন করা হয়েছে বা টুকরো করে বিক্রি করা হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করছে। উদ্ধার হওয়া সেন্ট অ্যাগনেসের সেই ঐতিহাসিক ছবিটি পরে যথাযথ সম্মান ও আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে তার নিজ ঠিকানায় ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।



