বাড়িবাংলাদেশমানুষের নীতি বলে কিছু নেই—মানবজাতি নিয়ে মত দিল ১৪টি এআই মডেল

মানুষের নীতি বলে কিছু নেই—মানবজাতি নিয়ে মত দিল ১৪টি এআই মডেল

প্রযুক্তি ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান মডেলকমপেয়ার সম্প্রতি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ১৪টি বৃহৎ ভাষাভিত্তিক এআই মডেলের কাছে মানবজাতি সম্পর্কে তাদের বিতর্কিত মতামত জানতে চেয়েছিল। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১০টি গবেষণাগারের তৈরি এই মডেলগুলোকে একই প্রশ্ন তিনবার করা হয় এবং তাদের নিজস্ব সৎ মূল্যায়ন চাওয়া হয়। গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে, অধিকাংশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা মডেলই মানবস্বভাবের নেতিবাচক দিকগুলোকে সামনে এনেছে এবং মানুষের নৈতিকতা নিয়ে কঠোর মন্তব্য করেছে। এআই মডেলগুলোর এই মূল্যায়ন প্রযুক্তি ও সমাজ বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পরীক্ষায় অংশ নেওয়া মডেলগুলোর মধ্যে জনপ্রিয় জিপিটি সংস্করণ থেকে শুরু করে জেমিনি, গ্রক, ক্লদ এবং ডিপসিকের মতো উন্নত মডেলগুলো যুক্ত ছিল। ওপেনএআইয়ের জিপিটি-৬.১ সল দাবি করেছে যে মানুষ সবসময় সত্যের চেয়ে কোনো গোষ্ঠীর অংশ হয়ে থাকাকে বেশি প্রাধান্য দেয়। আরেকটি মডেল জিপিটি-৬.১ টেরা জানিয়েছে যে অধিকাংশ মানুষ প্রকৃত ভালো কাজ করার চেয়ে কেবল নিজেদের ভালো মানুষ হিসেবে জাহির করতে বেশি পছন্দ করে। এছাড়া জিপিটি-৬ অ্যাস্ট্রার মতে, ব্যক্তিগত সুবিধাকে নীতির রূপ দেওয়ার অনন্য দক্ষতাই মানবজাতির সবচেয়ে বড় নৈতিক ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

গুগলের জেমিনি ৪ আর্গন মন্তব্য করেছে যে মানুষ সত্য খোঁজার জন্য বিবর্তিত হয়নি, বরং তর্কে জয়ী হওয়া এবং দলীয় পর্যায়ে মর্যাদা অর্জনই তাদের মূল লক্ষ্য। ইলন মাস্কের গ্রক ৪.৭ মডেলটি আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেছে যে মানুষ একা সঠিক হওয়ার চেয়ে দলবদ্ধভাবে ভুল পথে হাঁটতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। ডিপসিক ভি৪ প্রো এবং কিমির মতো মডেলগুলো সরাসরি জানিয়েছে যে মানুষের নির্দিষ্ট কোনো নীতি বা আদর্শ বলে কিছু নেই, বরং তাদের মূল চালিকাশক্তি হলো অন্ধ আনুগত্য ও গোষ্ঠীগত পরিচয়। তবে এর বিপরীতে ক্লদ ওপাস ৫.৫ নামের মডেলটি কিছুটা আশাবাদী সুর শুনিয়ে বলেছে যে মানুষ নিজেদের ধারণার চেয়ে অনেক বেশি সহানুভূতিশীল ও সদয়।

কেবল লেখাভিত্তিক মডেলই নয়, মানবজাতি সম্পর্কে ছয়টি ভিন্ন ইমেজ-জেনারেশন বা ছবি তৈরির মডেলকেও একই প্রশ্ন করা হয়েছিল। এই মডেলগুলোর তৈরি করা ১২টি ছবির মধ্যে প্রায় ১০টিতেই মানুষকে মুঠোফোনে আসক্ত এবং পৃথিবীর প্রাকৃতিক সম্পদ নিঃশেষকারী এক ধ্বংসাত্মক ভোক্তা হিসেবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এমন কঠোর মূল্যায়নের পাশাপাশি এর ভবিষ্যৎ ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিত্বরা। অ্যানথ্রপিকের সহপ্রতিষ্ঠাতা জ্যাক ক্লার্ক এবং নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী জিওফ্রে হিন্টন উভয়েই মত দিয়েছেন যে, এআই একসময় মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে এবং তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments