বাড়িবাংলাদেশবাংলাদেশ-মালয়েশিয়া আলোচনা: মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পথে দুই দেশ

বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া আলোচনা: মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির পথে দুই দেশ

অর্থনীতি ডেস্ক: দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের লক্ষ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা এফটিএ করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া। বিগত বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিধি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়লেও এর পূর্ণ সম্ভাবনা এখনো পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। তাই পারস্পরিক অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে আরও সুদৃঢ় করতে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে এই চুক্তিকে অত্যন্ত সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সম্প্রতি উভয় দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে তিন দিনব্যাপী এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার প্রথম পর্ব শুরু হয়। বাণিজ্যসচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে দুই দেশের আলোচনার কর্মপরিধি বা ‘টার্মস অব রেফারেন্স’ চূড়ান্ত করে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এতে মালয়েশিয়ার ৩১ সদস্যের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির প্রধান আলোচক ড. রশিদি সাইদ এবং বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব খাদিজা নাজনীন।

বাণিজ্যসচিব তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের আসন্ন উত্তরণের পর বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে এই ধরনের বাণিজ্যিক চুক্তি অত্যন্ত সহায়ক হবে। কেবল শুল্ক হ্রাস করাই নয়, বরং হালাল শিল্প, সেমিকন্ডাক্টর খাতের উন্নয়ন, ডিজিটাল বাণিজ্য এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে যৌথ বিনিয়োগের মতো সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বৈচিত্র্যময় ও দীর্ঘস্থায়ী রূপ লাভ করবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।

মালয়েশিয়ার প্রধান আলোচক ড. রশিদি সাইদ জানান যে, প্রস্তাবিত এই চুক্তিটি কেবল বাণিজ্যিক লেনদেনের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব গড়ে তোলার একটি কৌশলগত প্রয়াস। অন্যদিকে, বাংলাদেশের প্রধান আলোচক খাদিজা নাজনীন আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন যে, চুক্তিটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে বাজারে প্রবেশ সহজ হওয়ার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। উভয় পক্ষের আন্তরিক প্রচেষ্টায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও কার্যকর চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা প্রত্যাশা করছেন।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments