বাড়িবাংলাদেশমাদারীপুরের চরমুগরিয়া: ইকোপার্কের নির্মাণকাজ বন্ধ, চুরি হচ্ছে মালামাল

মাদারীপুরের চরমুগরিয়া: ইকোপার্কের নির্মাণকাজ বন্ধ, চুরি হচ্ছে মালামাল

জাতীয় ডেস্ক: মাদারীপুর সদর উপজেলার চরমুগরিয়ায় প্রায় সাড়ে ছত্রিশ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন ইকোপার্ক প্রকল্পের নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। জমি অধিগ্রহণ ও ক্ষতিপূরণ প্রদান সংক্রান্ত জটিলতার জেরে স্থানীয় বাসিন্দাদের ধারাবাহিক বাধার মুখে এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ৩১ কোটি টাকারও বেশি অনুমোদন নিয়ে ২০২০ সালে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও আইনি ও প্রশাসনিক জট পাকায় তা থমকে গেছে। পরবর্তীতে প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে ৩৬ কোটি টাকার ওপরে নিয়ে যাওয়া হলেও কাজের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। বর্তমানে সঠিক তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে প্রকল্পটি চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

প্রকল্পের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কুমার নদের তীরে নয়াচর এলাকার প্রায় ১০ দশমিক ৩৬ একর জায়গায় এই ইকোপার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছিল ফরিদপুর সামাজিক বন বিভাগ। স্থানীয় ২৪টি পরিবার জমি ছেড়ে দিলেও মাত্র একটি পরিবার তাদের প্রাপ্য ক্ষতিপূরণ বুঝে পেয়েছে। বাকি পরিবারগুলো ক্ষতিপূরণ না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে নির্মাণকাজে বাধা সৃষ্টি করে আসছে। এই বিরোধের জেরে বিষয়টি ইতিমধ্যে আদালতে গড়িয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের দাবি, একবার প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণরূপে শেষ হয়ে গেলে তারা আর কোনোদিন তাদের জমি হারিয়ে ক্ষতিপূরণের টাকা পাবেন না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে কাজ বন্ধ থাকায় পুরো ইকোপার্ক এলাকাটি এখন ঘন ঝোপজঙ্গলে ঢেকে গেছে। অবহেলা ও তদারকির অভাবে পার্কের ভেতরে গড়ে ওঠা তিনতলা অফিস ভবন, স্টাফ জোন, অর্কিড হাউস, চিকিৎসাকেন্দ্রসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা নষ্ট হতে বসেছে। পার্কের অভ্যন্তরীণ রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে নির্মাণকাজে ব্যবহারের জন্য রাখা ইট, বালু এবং রডের মতো দামি মালামাল ইতিমধ্যেই চুরি হয়ে গেছে। রাতের আঁধারে এবং নিরিবিলি পরিবেশের সুযোগ নিয়ে এলাকাটি মাদকসেবী ও বখাটেদের নিরাপদ আড্ডায় পরিণত হয়েছে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন।

মাদারীপুর বন বিভাগের কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অনুকূলে ক্ষতিপূরণের জন্য দুই কোটিরও বেশি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল এবং সেই অর্থ তৎকালীন জেলা প্রশাসকের কাছে হস্তান্তরও করা হয়েছিল। তবে তৎকালীন জেলা প্রশাসকের বদলিসহ নানামুখী প্রশাসনিক জটিলতার কারণে বাকি ভুক্তভোগীরা আজও সেই টাকা হাতে পাননি। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে প্রকল্পের প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও স্থানীয় লোকজনের জোরালো বাধার কারণে নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ করা সম্ভব হচ্ছে না। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জটিলতার স্থায়ী সমাধান না হলে সরকারি এই বিশাল বিনিয়োগ সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments