বাড়িবাংলাদেশসুরের টানে জমজমাট সিডনি অপেরা হাউস

সুরের টানে জমজমাট সিডনি অপেরা হাউস

ডেস্ক রিপোর্ট: বিশ্ব অপেরা দিবস উপলক্ষে সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ার বিখ্যাত সিডনি অপেরা হাউস চত্বরে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ছুটির দিনটিতে পরিবার এবং প্রিয়জনদের নিয়ে প্রাঙ্গণে হাজির হয়েছিলেন অসংখ্য মানুষ। ঐতিহাসিক এই স্থাপত্যটিকে পেছনে রেখে সেলফি তুলে মুহূর্তটিকে ক্যামেরাবন্দি করতে ব্যস্ত সময় পার করেন দর্শনার্থীরা। চারপাশের এই প্রাণবন্ত উপস্থিতি এবং নানা ধরনের সংগীত আয়োজনের মধ্য দিয়ে চেনা অপেরা হাউস চত্বরটি এক অন্যরকম উৎসবের রূপ নেয়।

মূলত ষোড়শ শতকের শেষভাগে ইতালির ফ্লোরেন্সে উৎপত্তি হওয়া এই মঞ্চশিল্পকে উদ্‌যাপনের জন্যই বিশ্বজুড়ে নানা কর্মসূচি পালিত হয়। এরই অংশ হিসেবে সিডনি অপেরা হাউসের জোয়ান সাদারল্যান্ড থিয়েটারে অপেরা অস্ট্রেলিয়ার উদ্যোগে একটি বিশেষ সংগীতানুষ্ঠান পরিবেশিত হয়। পুচিনি, ভের্দি ও রসিনির মতো বিশ্বখ্যাত শিল্পীদের জনপ্রিয় গানগুলোর সুরে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মিলনায়তন। একইসঙ্গে কনসার্ট হলে মঞ্চস্থ হয় জনপ্রিয় সংগীতনাট্য মাই ফেয়ার লেডি, যা দর্শকদের মাঝে দারুণ উত্তেজনার সৃষ্টি করে।

ব্রডওয়েতে নাটকটি প্রথম মঞ্চস্থ হওয়ার ৭০ বছর পূর্তি উদ্‌যাপন উপলক্ষে এই বিশেষ পরিবেশনার আয়োজন করা হয়। নাটকটিতে ফুল বিক্রেতা এলাইজা ডুলিটলের রূপান্তরের গল্প অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ফুটিয়ে তুলেছেন অভিনয়শিল্পীরা। প্রখ্যাত গানগুলোর জাদুকরী সুরে মুগ্ধ হয়ে দর্শকরা দীর্ঘক্ষণ মিলনায়তনে বসে উপভোগ করেন। আয়োজকদের সূত্রে জানা গেছে, এই সংগীতনাট্যের প্রদর্শনী নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।

ফ্রান্সের জর্জেস বিজে ও অস্ট্রিয়ার জোহান স্ট্রসের জন্মবার্ষিকীকে স্মরণ করে প্রতিবছর ২৫ অক্টোবর বিশ্ব অপেরা দিবস হিসেবে উদ্‌যাপিত হয়। নতুন প্রজন্মের কাছে এই শিল্পকে আরও জনপ্রিয় করে তোলার পাশাপাশি মানুষের আবেগ ও অনুভূতির মেলবন্ধন ঘটানোই এই দিবসের মূল উদ্দেশ্য। ভাষা ও সংস্কৃতির সীমানা পেরিয়ে সুরের মূর্ছনা যে বিশ্ববাসীকে এক সুতোয় বাঁধতে পারে, এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে সেটিই আবার প্রমাণিত হয়েছে।

তবে এই আনন্দ ও উৎসবের মাঝেও শিল্পীদের আর্থিক অনিশ্চয়তা ও পেশাগত সুরক্ষার বিষয়টিও জোরালোভাবে সামনে এসেছে। জার্মান অর্কেস্ট্রা পরিচালক কেভিন জন এডুসেইসহ বিশিষ্টজনেরা অনেক শিল্পীর স্বল্পমেয়াদি চুক্তি ও মহড়ার পারিশ্রমিক না পাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। অপেরার মতো ধ্রুপদী শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে শিল্পীদের ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। সবমিলিয়ে নানা বর্ণ ও সংস্কৃতির মানুষের অংশগ্রহণে সিডনি অপেরা হাউসের এই আয়োজন এক অনন্য সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছিল।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments