বাড়িখেলাশামির অবসরে ভারতীয় বোর্ডকে কাঠগড়ায় তুললেন শাস্ত্রী

শামির অবসরে ভারতীয় বোর্ডকে কাঠগড়ায় তুললেন শাস্ত্রী

খেলা ডেস্ক: অভিজ্ঞ পেসার মোহাম্মদ শামির টেস্ট ক্রিকেটকে বিদায় জানানো নিয়ে তীব্র হতাশা প্রকাশ করেছেন ভারতীয় দলের সাবেক প্রধান কোচ রবি শাস্ত্রী। দেশের হয়ে দীর্ঘ সময় ধরে অসাধারণ পারফর্ম করা এই পেসারকে লাল বলের ক্রিকেটে আরও একটি সুযোগ না দেওয়ায় তিনি সরাসরি ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচকদের কাঠগড়ায় দাঁড়րিয়েছেন। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের এই দীর্ঘতম সংস্করণ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন অভিজ্ঞ এই ফাস্ট বোলার। তবে টেস্ট থেকে অবসর নিলেও তিনি সীমিত ওভারের ক্রিকেট খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দীর্ঘ তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে জাতীয় দলের হয়ে কোনো টেস্ট ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি তিনি। এই দীর্ঘ অনুপস্থিতি এবং শেষ পর্যন্ত তার অবসরের সিদ্ধান্ত ভারতীয় ক্রিকেটের জন্য একটি বড় ক্ষতি বলে মনে করছেন রবি শাস্ত্রী।

ভারতের একটি দ্বিপক্ষীয় ওয়ানডে ম্যাচের আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শাস্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান যে শামির মতো প্রতিভাবান বোলারের দেশকে আরও অনেক কিছু দেওয়ার ক্ষমতা ছিল। তার মতে, বোর্ডের যথাযথ মূল্যায়ন পেলে এই পেসার টেস্ট ক্রিকেটে আরও অন্তত ত্রিশ থেকে চল্লিশটি উইকেট শিকার করতে পারতেন। গত এক বছর ধরে দল গঠনে তাকে বিবেচনা করা উচিত ছিল বলে মনে করেন সাবেক এই কোচ। জিম্বাবুয়ে বা অন্য কোনো দলের বিপক্ষে নয়, বরং টেস্ট বোলার হিসেবে নিয়মিত মাঠে তার উপস্থিতি দলের বোলিং আক্রমণকে আরও শাণিত করতে পারত। কিন্তু নির্বাচকদের উদাসীনতার কারণে সেই সম্ভাবনা আর বাস্তব হয়ে ওঠেনি।

খেলোয়াড়দের ফিটনেস মাপার প্রচলিত পদ্ধতি নিয়েও কড়া সমালোচনা করেছেন শাস্ত্রী। তার মতে, জিমনামিয়ামে বিভিন্ন যন্ত্রের সাহায্যে ফিটনেস পরীক্ষা করার চেয়ে মূল মাঠে টানা বোলিং করার সক্ষমতাই হলো একজন ক্রিকেটারের আসল ফিটনেসের প্রমাণ। মাঠে নেমে যদি কেউ দীর্ঘ সময় ধরে একটানা বোলিং করতে না পারেন, তবে জিম করে ফিট থাকার কোনো বাস্তব অর্থ থাকে না। শামি বরাবরই একজন অত্যন্ত পরিশ্রমী ও লড়াকু বোলার হিসেবে নিজের প্রমাণ দিয়ে এসেছেন। তাকে উপযুক্ত সম্মান ও সুযোগ না দেওয়ায় নির্বাচকদের ওপর নিজের অসন্তোষ ঢাকেননি সাবেক এই কোচ।

ঘরোয়া ক্রিকেটে এই পেসারের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পরিসংখ্যান তুলে ধরে শাস্ত্রী জানান, ফিটনেস নিয়ে নানা মহলে প্রশ্ন তোলার পরও তিনি ঘরোয়া লীগে নিয়মিত খেলে গেছেন। বাংলার হয়ে ঘরোয়া টুর্নামেন্টে মাঠে নেমে তিনি নিয়মিতভাবে পনেরো থেকে কুড়ি ওভার পর্যন্ত বোলিং করেছেন। নিজের সামর্থ্য ও ফিটনেস প্রমাণ করতে একজন খেলোয়াড়কে এর চেয়ে বেশি আর কী প্রমাণ দিতে হবে, সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি। গত রঞ্জি ট্রফি মৌসুমে মাত্র কয়েকটি ম্যাচ খেলে সাঁত্রিশটি উইকেট শিকার করার পরও তাকে জাতীয় টেস্ট দলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়নি। অথচ দলের কোনো অভিজ্ঞ বোলার চোটে পড়লে সবাই অভিজ্ঞতার খোঁজ করেন, অথচ ঘরের কাছেই তার মতো পরীক্ষিত পারফর্মর থাকা সত্ত্বেও তাকে কাজে লাগানো হয়নি।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments