বাড়িখেলা‘ফাইনাল না দিলে স্পেনের বিশ্বকাপ প্রত্যাহার করা উচিত’

‘ফাইনাল না দিলে স্পেনের বিশ্বকাপ প্রত্যাহার করা উচিত’

খেলা ডেস্ক: আগামী ২০৩০ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করার কথা রয়েছে স্পেন, পর্তুগাল ও মরক্কোর। এই মেগা টুর্নামেন্ট শুরু হতে আরও বেশ কিছু সময় বাকি থাকলেও এর মধ্যেই ফাইনাল ম্যাচের ভেন্যু নিয়ে শুরু হয়েছে নানা গুঞ্জন ও বিতর্ক। টুর্নামেন্টের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচটি নিজেদের মাটিতে আয়োজন করার জোরালো দাবি জানিয়ে আসছে স্পেন। তবে মরক্কোও এই ফাইনাল নিজেদের দেশে আয়োজন করতে আগ্রহী হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে স্পেনের প্রধান বিরোধী দলের শীর্ষ নেতা দেশটির বিশ্বকাপ আয়োজন থেকে সরে দাঁড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছেন।

স্পেনের পপুলার পার্টির নেতা আলবার্তো নুনিয়েজ ফেইখো সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমে স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, ফাইনাল ম্যাচ আয়োজনের দায়িত্ব যদি স্পেনকে না দেওয়া হয়, তবে যৌথ আয়োজক হিসেবে তাদের এই টুর্নামেন্ট থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেওয়া উচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি উল্লেখ করেছেন যে আন্তর্জাতিক ফুটবলের অন্যতম প্রধান শক্তিকে কোনোভাবেই অসম্মান করা যায় না। তার মতে, বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসরের ফাইনাল এমন কোনো ভেন্যুতে হওয়া উচিত যা সব দিক থেকে যুক্তিযুক্ত এবং উপযুক্ত, আর সেই মানদণ্ডে স্পেনই সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে।

চলতি টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ আয়োজনের দৌড়ে মূলত দুটি ভেন্যু এগিয়ে রয়েছে যার একটি স্পেনের রিয়াল মাদ্রিদের বিখ্যাত সান্তিয়াগো বার্নাব্যু স্টেডিয়াম এবং অন্যটি মরক্কোর কাসাব্লাঙ্কার নিকটবর্তী নবনির্মিত একটি বিশাল স্টেডিয়াম। এর আগে মরক্কো ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান দাবি করেছিলেন যে শেষ পর্যন্ত মরক্কোতেই বিশ্বকাপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে। তবে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থা ফিফা জানিয়েছে যে ফাইনাল ম্যাচের ভেন্যু বা আয়োজক নিয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। মরক্কোর এই দাবির পরেই স্পেনের রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

এদিকে ফুটবল কূটনীতির বাইরেও স্পেন ও মরক্কোর কূটনৈতিক সম্পর্কে বেশ কিছুদিন ধরে কিছুটা টানাপোড়েন চলছে। সম্প্রতি সীমান্ত এলাকায় অভিবাসী প্রবেশ সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে দুই দেশের সম্পর্কে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল। বিরোধী দলীয় নেতা আলবার্তো নুনিয়েজ ফেইখো এই বিষয়গুলো সামনে এনে বর্তমান সরকারের বৈদেশিক নীতির সমালোচনা করেছেন। সবমিলিয়ে মাঠের বাইরের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক নানা সমীকরণের প্রভাব এখন ২০৩০ বিশ্বকাপের আয়োজন প্রক্রিয়ার ওপরও পড়তে শুরু করেছে।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments