বাড়িবাণিজ্যগাইবান্ধার চরাঞ্চল: ভুট্টা চাষে সার মিলছে না

গাইবান্ধার চরাঞ্চল: ভুট্টা চাষে সার মিলছে না

অর্থনীতি ডেস্ক: গাইবান্ধার বিভিন্ন চরাঞ্চলের কৃষকেরা ভুট্টা চাষের ভরা মৌসুমে প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছিলেন না। স্থানীয় ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে সার না থাকায় চাষিরা চরম বিপাকে পড়েছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে চরাঞ্চলে আবাদের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানো হলেও সময়মতো সার সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়নি। এর ফলে বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলের চাষাবাদ হুমকির মুখে পড়েছে এবং কৃষকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে চাষিরা খোলাবাজারে সার বিক্রির জোরালো দাবি জানিয়েছেন।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গাইবান্ধার ছোট-বড় ১৬৫টি চরে এ বছর প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর জমিতে ভুট্টা আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এই লক্ষ্যমাত্রা প্রায় এক হাজার হেক্টর বেশি। তবে মৌসুমের শুরুতেই সারের তীব্র স্বল্পতা দেখা দেওয়ায় কৃষকেরা সময়মতো জমি প্রস্তুত করতে পারছেন না। কৃষকদের হাতে দ্রুত সার পৌঁছে দেওয়ার জন্য প্রতিটি চরে সাব-ডিলার নিয়োগ করা হলেও বাস্তবে তার সুফল মিলছে না। ডিলারদের কাছে চাহিদা জানালেও পর্যাপ্ত সার মিলছে না বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী চাষিরা।

সরেজমিনে চরাঞ্চল ঘুরে দেখা গেছে, অনেক কৃষক ব্যস্ত সময় পার করছেন জমি তৈরি ও ভুট্টা রোপণে। আবার অনেকেই জমি প্রস্তুত করেও প্রয়োজনীয় সারের অপেক্ষায় হাত গুটিয়ে বসে আছেন। বিশেষ করে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর যারা কিছুটা আগাম ভুট্টা লাগিয়েছিলেন, তারা চরম সারের সঙ্কটে পড়েছেন। ডিলার পয়েন্ট থেকে সার সংগ্রহ করতে গেলে অতিরিক্ত সময় ও যাতায়াত ভাড়া বাবদ কৃষকদের অতিরিক্ত তিন থেকে চার শ টাকা খরচ করতে হচ্ছে। ফুলছড়ি ও সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা জানান, চাহিদার তুলনায় সামান্য সার মিললেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল।

ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, ডিলারদের কাছে সার চাইতে গেলে তাদের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। নিরুপায় হয়ে অনেকে অতিরিক্ত চার থেকে পাঁচ শ টাকা বেশি খরচ করে খোলা বাজার বা অন্য উৎস থেকে সার সংগ্রহ করছেন। কেউ কেউ বিশাল পরিমাণে জমিতে ভুট্টা চাষ করলেও পর্যাপ্ত সার না পেয়ে ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন। তবে সার ডিলারদের দাবি, সরকারিভাবে যে পরিমাণ বরাদ্দ পাওয়া যায়, নিয়ম অনুযায়ী তা কৃষকদের মাঝে বিতরণ করা হয়। একসঙ্গে সবার চাহিদা তৈরি হওয়ায় এই সাময়িক সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।

পরিস্থিতির বিষয়ে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান জানান, সাধারণত নভেম্বরের দিকে চরাঞ্চলে ভুট্টা চাষ শুরু হলেও এ বছর আগাম বন্যার কারণে অক্টোবরের শুরুতেই কৃষকেরা চাষাবাদ শুরু করেছেন। মূলত একই সময়ে কৃষকদের একসাথে সার সংগ্রহের অতিরিক্ত প্রবণতার কারণে এই চাপ তৈরি হয়েছে। তবে সরকারি গুদামে পর্যাপ্ত পরিমাণ সারের মজুত রয়েছে এবং কৃষকদের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। চরাঞ্চলের কৃষকদের মাঝে দ্রুত ও সহজলভ্য উপায়ে সার বিতরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments