অপরাধ ডেস্ক: ভালো বেতনের লোভনীয় চাকরি এবং সামাজিক মর্যাদাসম্পন্ন পাত্রের সঙ্গে বিবাহের মিথ্যা আশ্বাসে সাধারণ মানুষকে প্রলুব্ধ করা হচ্ছিল। একটি সংঘবদ্ধ মানবপাচারকারী চক্র এই অভিনব কৌশল অবলম্বন করে সহজ-সরল মানুষকে নিজেদের পাতা ফাঁদে ফেলত। সম্প্রতি এই চক্রের খপ্পরে পড়ে চরম অনিশ্চয়তা ও বিপদের মুখে পড়েন বেশ কয়েকজন ভুক্তভোগী। চক্রের প্রধান লক্ষ্য ছিল মূলত সুবিধাবঞ্চিত বা চাকরিপ্রার্থী তরুণ-তরুণীরা, যারা সহজেই উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখেন।
প্রতারক চক্রের মূল পরিকল্পনা ছিল প্রথমে চাকরি বা বিয়ের ভুয়া প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভুক্তভোগীদের নির্দিষ্ট কোনো স্থানে একত্রিত করা। পরবর্তীতে তাদের জিম্মি করে বা বিভিন্ন অবৈধ পন্থায় পাচার করার পাঁয়তারা করা হচ্ছিল বলে জানা গেছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার কারণে চক্রের সেই ষড়যন্ত্র শেষ পর্যন্ত সফল হতে পারেনি। সময়মতো গোয়েন্দা তথ্য ও অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে এই ভয়ংকর চক্রের খামার থেকে তাদের উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের পরিচয় যাচাই-বাছাই এবং তাদের স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান রয়েছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে উদ্ধার হওয়া নয়জন ব্যক্তির বিস্তারিত পরিচয় শনাক্তের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ভুক্তভোগীরা এই প্রতারণার নেপথ্যে জড়িত বেশ কয়েকজনের নাম প্রকাশ করেছেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাচারকারী চক্রের বাকি সদস্যদের আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। পলাতক মানবপাচারকারীদের দ্রুত গ্রেফতার করতে দেশের বিভিন্ন স্থানে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ জনগণকে এ ধরনের প্রলোভন থেকে দূরে থাকার এবং যেকোনো সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রশাসনকে অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।



