বাড়িবাংলাদেশকীভাবে চলে মারিয়া–রমেশের সংসার

কীভাবে চলে মারিয়া–রমেশের সংসার

জাতীয় ডেস্ক: নওগাঁর সাপাহার উপজেলার ফুরকুটিডাংগা গ্রামের সাঁওতাল দম্পতি রমেশ বাস্কী ও মারিয়া মুর্মু কৃষিশ্রমিক হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাঁদের কোনো আবাদি জমি নেই, কেবল বসতভিটাটুকু সম্বল। দুই কন্যাসন্তান নিয়ে গঠিত চার সদস্যের এই পরিবারে বড় মেয়ের বয়স ছয় বছর এবং ছোটটির বয়স মাত্র তিন মাস। এলাকায় স্থায়ী কোনো কর্মসংস্থান না থাকায় অন্যের জমিতে শ্রম বিক্রি করেই চলে তাঁদের কষ্টের সংসার।

একসময় বরেন্দ্র অঞ্চলের এই বিস্তীর্ণ মাঠে আমন ও বোরো ধানসহ নানা ফসলের চাষ হতো, যা থেকে বছরের চার-পাঁচ মাস কাজ পেতেন এই অঞ্চলের কৃষিশ্রমিকেরা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ধানের জমিগুলো আমবাগানে রূপান্তরিত হওয়ায় কাজের সুযোগ মারাত্মকভাবে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের হিসাব অনুযায়ী, সাপাহার ও পোরশা উপজেলার ফসলি মাঠের অর্ধেকের বেশি অংশ এখন আমবাগান। ফলে বছরের একটি নির্দিষ্ট সময় ছাড়া কৃষিশ্রমিকদের হাতে তেমন কোনো কাজ থাকে না।

মারিয়া মূলত আম পাড়ার মৌসুমে এক থেকে দেড় মাস কাজ পান এবং দৈনিক ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা মজুরিতে তাঁর কিছু সঞ্চয় হয়। অন্যদিকে স্বামী রমেশ স্থানীয়ভাবে কাজ না পেয়ে জীবিকার টানে রাজশাহী বা পঞ্চগড়ের মতো দূরের জেলায় গিয়ে পানের বরজ বা পাথর তোলার কাজ করেন। এই অনিয়মিত আয় দিয়ে সারা বছরের সংসার চালানো এবং তিন বেলা শাক-ভাত জো্টানোই এখন এই দম্পতির জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অভাব-অনটন ও কাজের অনিশ্চয়তার মধ্যেও মারিয়া ও রমেশ তাঁদের দুই মেয়েকে পড়াশোনা শিখিয়ে ভবিষ্যতের সুদিন দেখতে চান। বাপ-দাদার আমল থেকে চলে আসা কৃষিকাজের এই চক্র ভেঙে মেয়েরা যেন জীবনে উন্নতি করতে পারে, সেটাই তাঁদের একমাত্র আশা। এর পাশাপাশি অভাবের তাড়নার মাঝেও সোহরাই এবং কারামপূজার মতো ঐতিহ্যবাহী উৎসবগুলো তাঁদের জীবনে নিয়ে আসে আনন্দের পসরা, যার অপেক্ষায় থাকে পুরো সাঁওতাল সম্প্রদায়।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments