বাড়িজীবনযাপনসুখ তুমি কী, বড় জানতে ইচ্ছে করে...

সুখ তুমি কী, বড় জানতে ইচ্ছে করে…

লাইফস্টাইল ডেস্ক: রেস্তোরাঁয় সুস্বাদু খাবার পরিবেশন করার পর কিংবা সমুদ্রসৈকতে সূর্যাস্ত দেখার সময় বর্তমান প্রজন্মের অনেকেই খোলা চোখে তা উপভোগ করার চেয়ে মুঠোফোনের ক্যামেরায় ধারণ করতেই বেশি ব্যস্ত থাকেন। প্রকৃতির আসল সৌন্দর্য দেখার চেয়ে নিখুঁত ছবি বা রিল বানানোর তাগিদ আজকাল জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে জাঁকিয়ে বসেছে। খাবার ঠান্ডা হয়ে গেলেও আকর্ষণীয় ছবি তোলার এই প্রবণতা আমাদের জীবনকে একধরনের প্রদর্শনীতে পরিণত করেছে। প্রশ্ন হলো, কেন মানুষ প্রতিটি মুহূর্তকে ডিজিটাল মাধ্যমে নথিভুক্ত করতে এত বেশি মরিয়া হয়ে উঠেছে?

এর মূল উত্তর হলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ফিডে নিজের অবস্থান জাহির করা এবং অন্যের সঙ্গে অদৃশ্য এক প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হওয়া। অন্যদের সাজানো-গোছানো জীবনের ঝলক দেখে নিজের জীবনকে আকর্ষণীয় প্রমাণ করার এই ইঁদুরদৌড়ে মানুষ জীবন উপভোগ করার চেয়ে পারফর্ম করতেই বেশি ব্যস্ত থাকে। ফলস্বরূপ, জীবনের আসল অনুভূতিগুলো পর্দার আড়ালে ঢাকা পড়ে যায় এবং সবকিছু কেবল ডকুমেন্টিংয়ে সীমিত হয়ে পড়ে। এই ক্লান্তি থেকে মুক্তি পেতে অনেকে এখন জেওএমও বা কিছু না জানার আনন্দ বেছে নিচ্ছেন, যা অন্যের হিসাব না রেখে নিজের ভেতরের শান্তিতে মনোনিবেশ করতে শেখায়। প্রাচীন গ্রিক দার্শনিকরাও বলে গেছেন যে কোনো সাধনা বা অর্জন কেবল নিজের জন্য হওয়া উচিত, অন্যকে দেখানোর জন্য নয়।

সামাজিক মাধ্যমে অনেক সময় প্রচার করা হয় যে সুখ সম্পূর্ণ মানুষের নিজের পছন্দের ওপর নির্ভর করে, যা সব বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। সুখ কোনো স্থায়ী বা ইচ্ছেমতো সুইচ অন করার বিষয় নয়, বরং এটি বিভিন্ন জটিল উপাদানের ওপর নির্ভরশীল একটি অস্থায়ী আবেগ। বিশেষ করে যাঁরা বিষণ্নতা বা মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের জন্য জোর করে খুশি থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া অবাস্তব এবং তা আরও অপরাধবোধ বাড়াতে পারে। আর্থসামাজিক অবস্থা, শারীরিক স্বাস্থ্য ও পারিপার্শ্বিক চাপ মানুষের সুখানুভূতির ওপর বড় প্রভাব ফেলে, তাই কাউকে জোর করে খুশি থাকতে বলা সঠিক নয়।

সবার সামনে জাহির করার জন্য জীবন নয়, বরং নিজের ভেতরের প্রশান্তির জন্য বাঁচাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। প্রতিটি মুহূর্ত সুন্দর হতে পারে, এমনকি তার কোনো সাক্ষী বা দর্শক না থাকলেও। সুখ যদি হুট করে বেছে নেওয়া না যায়, তবে ছোট ছোট অভ্যাসের মাধ্যমে এটিকে নিজের জীবনে ফুটিয়ে তোলা সম্ভব। মানুষের সঙ্গে বাস্তব ও অর্থপূর্ণ যোগাযোগ বজায় রাখা, ছোট বিষয়ের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা এবং বর্তমান মুহূর্তে বাঁচার মানসিকতা বাড়ানোর মাধ্যমে মনের শান্তি অর্জন করা যায়। এছাড়া সোশ্যাল মিডিয়ায় অতিরিক্ত সময় কাটানো কমিয়ে নিজের যত্ন নেওয়া এবং প্রয়োজনে পেশাদার চিকিৎসকের সাহায্য নেওয়া মানসিক সুস্থতার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments