জাতীয় ডেস্ক: দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা সুদৃঢ় করতে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপদ সীমান্ত ব্যবস্থার বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি সম্প্রতি রাজধানীর একটি হোটেলে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার উদ্যোগে আয়োজিত এক কৌশলগত রূপরেখা প্রকাশ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই অভিমত ব্যক্ত করেন। বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় দেশের সঙ্গে বহির্বিশ্বের যোগাযোগ বহুগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় আন্তর্জাতিক যাতায়াত ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম সহজ করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সীমান্ত পারাপার সংক্রান্ত নানাবিধ ঝুঁকি কার্যকরভাবে মোকাবিলা করার জন্য আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
অনুষ্ঠানে সরকারের পক্ষ থেকে জাতীয় সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কৌশল এবং পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত সংস্কার ও উন্নয়ন রূপরেখার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হয়। ডিজিটাল রূপান্তর নিশ্চিত করা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল প্রয়োগ ঘটানো, কাগজবিহীন প্রশাসনিক কার্যক্রম চালু করা এবং বিভিন্ন সরকারি সেবার মধ্যে আন্তঃকার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করাই বর্তমান প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার। দেশের বিমানবন্দর, স্থলবন্দর এবং বিভিন্ন ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের কার্যক্রমগত সক্ষমতা বহুগুণ বাড়ানোর জন্য আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের পাশাপাশি যথাযথ নীতিমালার প্রণয়ন জরুরি। বিশেষ করে ইমিগ্রেশন ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কেবল প্রযুক্তি ব্যবহারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একে মানবিক অধিকার রক্ষা, জনসচেতনতা এবং সর্বোচ্চ পেশাদার মানদণ্ডে উন্নীত করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। মানব পাচার, বহুজাতিক অপরাধ এবং অবৈধ অভিবাসন জোরালোভাবে প্রতিরোধ করার জন্য সব সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দপ্তর এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ উদ্যোগ অপরিহার্য। সীমান্ত সুরক্ষা ও ব্যবস্থাপনা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে নিশ্চিত করা সম্ভব নয় বিধায় আন্তমন্ত্রণালয় সমন্বয় জোরদার করার কোনো বিকল্প নেই। আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার প্রস্তাবিত কৌশলগত রূপরেখাকে স্বাগত জানিয়ে দেশের সীমান্ত কাঠামো আরও শক্তিশালী করতে সহযোগী সংস্থাগুলোর আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তা কামনা করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা বাংলাদেশ মিশনের প্রধান জানান যে অভিবাসন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে প্রশংসনীয় অগ্রগতি অর্জন করেছে। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সীমান্ত ব্যবস্থাপনার ধরন ও প্রয়োজনীয়তা পরিবর্তিত হচ্ছে, যা কার্যকর করতে দক্ষ জনবল এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানো দরকার। এছাড়া অনুষ্ঠানে কানাডা ও ইতালির কূটনীতিকসহ বিভিন্ন অংশীদার সংস্থার উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থেকে বৈধ ভ্রমণ ও বাণিজ্য সহজ করার পাশাপাশি নানা ধরনের আন্তসীমান্ত অপরাধ মোকাবিলার কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন। প্রস্তাবিত কৌশলগত রূপরেখায় সমন্বিত ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল তথ্য আদান-প্রদান, পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে একসঙ্গে কাজ করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।



