বাড়িজীবনযাপনকুকুর পোষা পাপ আর বিড়াল পোষা কি সুন্নত

কুকুর পোষা পাপ আর বিড়াল পোষা কি সুন্নত

ধর্ম ডেস্ক: আমাদের সমাজে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রচলিত লোককথা বা ধারণা ব্যাপকভাবে চলে আসছে যে কুকুর পোষা নাকি একটি বড় পাপ এবং অন্যদিকে বিড়াল পোষা সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত। এই ধরনের ধারণাগুলোর কারণে সাধারণ মানুষের মনে প্রাণী লালন-পালন নিয়ে নানা ধরনের বিভ্রান্তি ও ভুল ধারণার সৃষ্টি হয়। অনেক সময় মানুষ না জেনেই এই কথাগুলোকে পরম সত্য হিসেবে গ্রহণ করে এবং সে অনুযায়ী আচরণ করতে শুরু করে।

এই প্রচলিত বিশ্বাসের ফলে বাস্তব জীবনে আমরা দেখতে পাই যে কুকুর দেখলে অনেকে সেটিকে তাড়িয়ে দেয় বা অহেতুক ঘৃণা করে, অথচ বিড়ালকে অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে ঘরের ভেতর লালন-পালন করা হয়। ইসলাম ধর্মে পশুপাখির প্রতি দয়া প্রদর্শনের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং সব প্রাণীর সঙ্গেই সদাচরণ করার নির্দেশ রয়েছে। তা সত্ত্বেও নির্দিষ্ট কিছু প্রাণীর ক্ষেত্রে সমাজে এমন পক্ষপাতমূলক ধারণা কীভাবে শিকড় গেড়েছে, তা নিয়ে সচেতন মহলে নানা আলোচনা রয়েছে।

ইসলামী শরিয়তের বিধান অনুযায়ী শিকার করা, ঘরবাড়ি বা গবাদিপশু পাহারা দেওয়া কিংবা কৃষিকাজের নিরাপত্তার মতো প্রয়োজনীয় উদ্দেশ্যে কুকুর পুষতে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। তবে অকারণে বা কেবল শৌখিনতার বশে ঘরের ভেতরে কুকুর রাখা নিয়ে কিছু বিধিবিধান ও সতর্কতা রয়েছে, যা অনেকেই না বুঝে পুরো বিষয়টিকে নিষিদ্ধ বা পাপ হিসেবে ধরে নেন। অন্যদিকে, বিড়াল পোষার বিষয়ে ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় কিছু বর্ণনা থাকায় মানুষ এটিকে বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ ও সুন্নাত হিসেবে মনে করে থাকেন।

সব মিলিয়ে প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা এবং ধর্মীয় অনুশাসনের সঠিক ব্যাখ্যার অভাবে এই ধরনের খণ্ডিত ধারণাগুলো সমাজে শক্ত অবস্থান করে নিয়েছে। তাই যেকোনো সামাজিক বা ধর্মীয় বিষয়ে অন্ধভাবে প্রচলিত প্রথার ওপর নির্ভর না করে সঠিক জ্ঞান অর্জন করা অত্যন্ত জরুরি। ইসলামি পণ্ডিত ও গবেষকদের মতে, সব সৃষ্টির প্রতি দয়া দেখানো এবং বিনা কারণে কোনো প্রাণীকে কষ্ট না দেওয়াই মূল শিক্ষা।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments