বাড়িবাণিজ্য১২ কেজি এলপিজির দাম বাড়িয়ে ১৯৭৬ টাকা করার সুপারিশ

১২ কেজি এলপিজির দাম বাড়িয়ে ১৯৭৬ টাকা করার সুপারিশ

অর্থনীতি ডেস্ক: তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের বা এলপিজির দাম বাড়ানোর সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে ১২ কেজি ওজনের একটি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম প্রায় সাত শতাংশ বাড়িয়ে এক হাজার ৯৭৬ টাকা নির্ধারণ করার সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি। এলপিজির মূল্য পুনর্নির্ধারণের লক্ষ্যে সম্প্রতি আয়োজিত দিনব্যাপী এক গণশুনানিতে এই প্রস্তাব পেশ করা হয়। যদিও সংশ্লিষ্ট খাতের ব্যবসায়ীরা এই দাম আরও বাড়িয়ে দুই হাজার ২৩২ টাকা করার দাবি জানিয়েছেন। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কমিশন এ বিষয়ে তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবে বলে জানা গেছে। চলতি মাসের শুরুতে বিইআরসি এই দাম এক হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছিল, যদিও বাজারে প্রতিটি সিলিন্ডার এর চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এই গণশুনানিতে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমদের সভাপতিত্বে কমিশনের অন্যান্য সদস্যসহ বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। শুনানিতে এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতি, ক্যাবসহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বিইআরসি চেয়ারম্যান জানান, সাধারণ মানুষ যেন যৌক্তিক মূল্যে জ্বালানি পায় এবং ব্যবসায়ীরাও যাতে বড় ধরনের লোকসানের মুখে না পড়েন, সেই দুই দিকের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করা হচ্ছে। আগের নিয়মের মতোই প্রতি মাসের শুরুতে নতুন মূল্য ঘোষণা করা হবে এবং আমদানিকারকদের ব্যাংকিং সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে শুনানিকালে বিভিন্ন কোম্পানির পক্ষ থেকে সিলিন্ডারের কমিশন উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়। ওমেরা, পেট্রোম্যাক্স ও মেঘনা গ্রুপের মতো বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের কমিশন বর্তমানের তুলনায় বাড়িয়ে নেওয়ার আবেদন জানায়। একইভাবে পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতারাও তাদের কমিশন বাড়ানোর জন্য আবেদন করেন। তবে বাজার অস্থিতিশীল করা এবং কৃত্রিম সংকট তৈরির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কয়েকটি কোম্পানির বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় শুনানিতে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। বিশেষ করে অর্থনীতি সমিতির প্রতিনিধি এই বিষয়ে কমিশনের জবাবদিহি প্রশ্নবিদ্ধ করে শুনানি বয়কট করেন।

শুনানির শেষ পর্যায়ে ব্যবসায়ীদের একটি পক্ষকে মাফিয়া অভিহিত করা নিয়ে তীব্র হট্টগোল ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এফবিসিসিআইর এক সদস্য ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযোগ তুলে তাদের মাফিয়া ডন হিসেবে উল্লেখ করলে বিতর্ক শুরু হয়। বিইআরসি চেয়ারম্যান এই শব্দের ব্যবহারে আপত্তি জানালে সাধারণ শ্রোতারা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং চেয়ারম্যান ব্যবসায়ীদের পক্ষ নিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন। এর ফলে কিছুক্ষণের জন্য সভাকক্ষে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লেও পরবর্তীতে কমিশনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। অর্থনীতি সমিতির পক্ষ থেকে অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রি করে ভোক্তাদের পকেট থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার সুনির্দিষ্ট হিসাব তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments