বাড়িবাংলাদেশমাতারবাড়ি সমুদ্রবন্দর নিয়ে জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব বিসর্জনের সুযোগ নেই: জামায়াত আমির

মাতারবাড়ি সমুদ্রবন্দর নিয়ে জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব বিসর্জনের সুযোগ নেই: জামায়াত আমির

জাতীয় ডেস্ক: মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি প্রকল্প ঘিরে দেশের জাতীয় স্বার্থ, নিরাপত্তা এবং ভৌগোলিক সার্বভৌমত্ব কোনোভাবেই বিসর্জন দেওয়া যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ পোস্টে তিনি এই কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, এ ধরনের কৌশলগত ও সংবেদনশীল প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দেশের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সুবিধার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়া উচিত।

সামাজিক মাধ্যমের ওই পোস্টে জামায়াত আমির আরও বলেন যে, দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে কোনো ধরনের উদ্যোগ বা সিদ্ধান্ত জনগণ কখনো মেনে নেবে না এবং এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কী ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে তা দেশবাসীর সামনে সম্পূর্ণ স্বচ্ছভাবে তুলে ধরতে হবে। অতীতে ট্রানজিট বা করিডোরের মতো বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থের কথা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ তার কাঙ্ক্ষিত কোনো সুফল পায়নি বলে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন। তাঁর মতে, পূর্বের সেই নেতিবাচক অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান সময়ে যেকোনো বড় অবকাঠামো বা বন্দর উন্নয়নের ক্ষেত্রে চরম সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

বন্ধুরাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান জানান যে, জাপান, চীন কিংবা বিশ্বের যেকোনো বন্ধুরাষ্ট্রের সঙ্গেই সুসম্পর্ক থাকুক না কেন, সবার আগে দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা এবং জাতীয় স্বার্থকেই সর্বাগ্রে প্রাধান্য দিতে হবে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কূটনৈতিক ভারসাম্যের চেয়ে নিজেদের ভূখণ্ডগত অখণ্ডতা ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা রক্ষা করাকে বেশি জরুরি বলে মনে করেন তিনি। কোনো বিশেষ রাষ্ট্রের অযাচিত প্রভাব বা চাপের মুখে দেশের মৌলিক স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয় এমন কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকার ওপরও তিনি বিশেষ জোর দেন।

দেশের স্বার্থ ও নিরাপত্তা সুরক্ষা করা বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান পবিত্র দায়িত্ব বলে মন্তব্য করে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা হুঁশিয়ার করে বলেন যে, এই ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে সামান্য কোনো ব্যর্থতা কিংবা আপসকামিতার মনোভাব জনগণ কখনোই সহ্য করবে না। বন্দর নির্মাণ বা এর ব্যবস্থাপনার সঙ্গে দেশের ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও নিরাপত্তার বিষয়টি গভীরভাবে জড়িত রয়েছে বলে তিনি মনে করেন। তাই যেকোনো চুক্তি বা সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করার আগে দেশবাসীর মতামত এবং জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি সবচেয়ে বেশি বিবেচনায় রাখার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি তিনি কড়া ভাষায় আহ্বান জানান।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments