বাড়িবিশ্বমাতারবাড়ী হয়ে ‘সেভেন সিস্টার্সে’র সঙ্গে সংযোগ জোরদার করতে চায় জাপান, যা বলল...

মাতারবাড়ী হয়ে ‘সেভেন সিস্টার্সে’র সঙ্গে সংযোগ জোরদার করতে চায় জাপান, যা বলল ভারত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বাংলাদেশের দক্ষিণ উপকূলে অবস্থিত মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক যোগাযোগ এবং অর্থনৈতিক সংযোগ আরও দৃঢ় করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে জাপান ও ভারত। সম্প্রতি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ও যোগাযোগের পরিধি বাড়াতে জাপানের সঙ্গে চলমান অংশীদারত্ব আরও জোরদার করা হবে। মূলত এ অঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় বাণিজ্য পথ সুগম করতেই এই ত্রিমুখী কৌশলগত সহযোগিতার কথা ভাবা হচ্ছে।

এর আগে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের একটি গুরুত্বপূর্ণ টোকিও সফরকালে দুই দেশের মধ্যে একাধিক দ্বিপক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দরের অবকাঠামাগত উন্নয়নে জাপানি সহায়তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। জাপানের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের সঙ্গে হওয়া ওই বৈঠকে আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থার প্রসারের বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দরটির নির্মাণকাজ দ্রুত সম্পন্ন হওয়ার পাশাপাশি এর কার্যকর ও সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার পথ সুগম হয়েছে।

ভারতীয় কূটনৈতিক মহলের তথ্য অনুযায়ী, জাপানের সঙ্গে ভারতের অত্যন্ত শক্তিশালী অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব রয়েছে এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে ইতিমধ্যে বেশ কিছু যৌথ প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। এসব উদ্যোগের অংশ হিসেবে স্থানীয় জনশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধিতে জাপানি ভাষা শিক্ষাসহ নানা ধরনের কারিগরি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। ফলে মাতারবাড়ীভিত্তিক শিল্পাঞ্চল চালু হলে তা কেবল বাংলাদেশের অর্থনীতিকেই চাঙ্গা করবে না, বরং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাতটি রাজ্যের সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

বর্তমানে দেশের বড় আকারের পণ্যবাহী জাহাজগুলো সাধারণত সিঙ্গাপুর বা মালয়েশিয়ার বন্দরগুলোর ওপর নির্ভরশীল থাকায় অতিরিক্ত সময় ও ব্যয় হয়। তবে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর পুরোপুরি চালু হলে এবং এর সঙ্গে ভারতীয় রাজ্যগুলোর যোগাযোগ স্থাপিত হলে এই নির্ভরতা অনেকটাই কমে আসবে। দুই দেশের যৌথ বিবৃতিতে বিগ-বি বা বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট উদ্যোগের আওতায় মাতারবাড়ী ও মহেশখালী অঞ্চলকে পণ্য পরিবহন, জ্বালানি এবং ভারী শিল্পের একটি প্রধান আঞ্চলিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়েছে।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments