রাজনীতি ডেস্ক: বর্তমান রাষ্ট্রব্যবস্থা একটি মাফিয়া রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি বা এনসিপির আহ্বায়ক এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। সম্প্রতি ঢাকার একটি এলাকায় দলের দক্ষিণ অঞ্চলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভার শুরুতে সাংবাদিকদের সামনে এই মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটেছে বলে অভিযোগ করেন এই রাজনৈতিক নেতা। ক্ষমতাসীনদের প্রভাবে বিচারব্যবস্থা সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
সরকারকে কঠোর ভাষায় সতর্ক করে নাহিদ ইসলাম বলেন যে, এই প্রশাসনকে আর ছাড় দেওয়া হলে দেশে পুনরায় আরেকটি ভয়াবহ ফ্যাসিবাদী শাসনব্যবস্থা চেপে বসতে পারে। এর আগে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে বহু মানুষের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, জনগণ আর কোনো স্বৈরাচারী শাসন দেখতে চায় না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো তাদের নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিতর্কিত মন্তব্য এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতার কারণে দেশের অপরাধ ও সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণ অসম্ভব হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
দেশের বিভিন্ন স্থানে মাদক চোরাচালান এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সরকারের উদাসীনতার সমালোচনা করেন এই এনসিপি নেতা। তিনি অভিযোগ করেন যে, চিহ্নিত মাদক স্পটগুলোর বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না এবং প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় অপরাধ কার্যক্রম চলছে। এমনকি নির্দিষ্ট কিছু এলাকার মাদক সিন্ডিকেটগুলো প্রশাসনের চোখের সামনেই তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে অথচ মন্ত্রীরা তা প্রতিরোধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। একদিকে সন্ত্রাসীদের হাতে অবৈধ অস্ত্র এবং অন্যদিকে ক্ষমতার অপব্যবহারের কারণে সমাজব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংসের মুখে পতিত হয়েছে।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে তীব্র সংশয় ও শঙ্কা প্রকাশ করেন নাহিদ ইসলাম। বর্তমান প্রশাসনিক কাঠামো এবং নির্বাচন কমিশনের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের কারণে এই নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। সরকারি দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও সহিংসতার কারণে বহু মানুষ হতাহত হলেও প্রশাসন কোনো ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারছে না। উক্ত মতবিনিময় সভায় এনসিপির শীর্ষস্থানীয় বেশ কয়েকজন নেতা এবং বিভিন্ন জেলার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন, যারা সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।



