বাড়িবাংলাদেশইসরায়েলে ভোটের ফলাফলে সম্ভাব্য ৪ পরিস্থিতি কী

ইসরায়েলে ভোটের ফলাফলে সম্ভাব্য ৪ পরিস্থিতি কী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের ১২০টি আসনে নতুন সরকার গঠনের লক্ষ্যে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এবং সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের ইয়াশার পার্টির নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের মধ্যে মূলত এই লড়াই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে নির্বাচনপূর্ব জরিপগুলোতে কোনো দল বা জোটের একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের সম্ভাবনা অত্যন্ত কম বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। ফলে দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেবে, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে জোর আলোচনা চলছে এবং ফলাফল প্রকাশের পর জটিল দর-কষাকষির পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

নির্বাচনী ফলাফলের ভিত্তিতে প্রথম সম্ভাব্য পরিস্থিতি হিসেবে একটি ভঙ্গুর জোট সরকার গঠনের সম্ভাবনা রয়েছে। বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকট অন্যান্য সমমনোভাবাপন্ন দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে সরকার গঠনের চেষ্টা করতে পারেন, যা ২০২১ সালের পেছনের অভিজ্ঞতার মতো অভ্যন্তরীণ কোন্দলে দ্রুত ভেঙেও পড়তে পারে। তাছাড়া, সংখ্যাগরিষ্ঠতার ম্যাজিক ফিগার ৬১ পার করতে তাদের মনসুর আব্বাসের নেতৃত্বাধীন আরব দলগুলোর ওপর নির্ভর করতে হতে পারে, যা বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় বেশ দুরূহ। এছাড়া জোটের অন্য শরিকরাও প্রধানমন্ত্রীর পদের দাবিদার হতে পারেন।

দ্বিতীয়ত, জরিপের হিসাব ভুল প্রমাণিত করে কোনো একটি দল বা জোট স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করতে পারে। বিগত নির্বাচনে নেতানিয়াহু ও তাঁর মিত্ররা আসনভিত্তিক সুবিধা পেয়েছিলেন, যার ফলে তাঁরা কট্টর ডানপন্থী ও স্থিতিশীল সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তবে বর্তমান নির্বাচনে ডানপন্থী ছোট দলগুলোর ভোটপ্রাপ্তির অনিশ্চয়তা এবং আরব নাগরিকদের ভোটার উপস্থিতি এই সমীকরণ পুরোপুরি বদলে দিতে পারে। যদি নেতানিয়াহুর পক্ষ বা বিরোধীরা অপ্রত্যাশিতভাবে বেশি ভোট পায়, তবে তা সরকার গঠনের চিত্র পাল্টে দিতে পারে।

তৃতীয়ত, ভোটের পর কোনো পক্ষই যদি স্থিতিশীল সরকার গঠন করতে ব্যর্থ হয়, তবে দীর্ঘমেগী রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হতে পারে, যা ইসরায়েলকে আবারও নির্বাচনের দিকে ঠেলে দিতে পারে। ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে এ ধরনের রাজনৈতিক সংকটের কারণে বেশ কয়েকবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। তবে এই অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নেতানিয়াহুই সবচেয়ে বেশি সুবিধাভোগী হতে পারেন। শেষ বা চতুর্থ পরিস্থিতি হিসেবে একটি সংখ্যালঘু সরকার গঠনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না, যেখানে বাইরে থেকে সমর্থনের মাধ্যমে কোনো জোটকে ক্ষমতা চালাতে হবে। তবে ইসরায়েলের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এ ধরনের সরকার টিকিয়ে রাখা অত্যন্ত কঠিন একটি চ্যালেঞ্জ।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments