বাড়িবাংলাদেশ‎মেট্রোরেলের দুই লাইনের ৪ ‎প্যাকেজের নির্মাণ চুক্তি সই

‎মেট্রোরেলের দুই লাইনের ৪ ‎প্যাকেজের নির্মাণ চুক্তি সই

জাতীয় ডেস্ক: রাজধানী ঢাকায় আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থার পরিধি বাড়াতে মেট্রোরেল প্রকল্পের দুটি গুরুত্বপূর্ণ লাইনের চারটি নির্মাণ প্যাকেজের জন্য আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সম্প্রতি রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে অবস্থিত মেট্রোরেল ভবনের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে এই চুক্তি সম্পন্ন হয়। বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের বা জাইকার যৌথ অর্থায়নে এই বৃহৎ প্রকল্প দুটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই নতুন প্যাকেজগুলোর আওতায় ডিপো, উড়াল রেলপথ ও একাধিক আধুনিক স্টেশন নির্মাণ করা হবে, যা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করবে।

এমআরটি লাইন-১ এবং এমআরটি লাইন-৫ এর অধীনে বাস্তবায়িত হতে যাওয়া এসব কাজের জন্য দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে এমআরটি লাইন-১ এর ডিপো নির্মাণের জন্য সিপি-২ প্যাকেজের কাজ পেয়েছে সিনোহাইড্রো-এসইবিসিএল জেভি, যার অধীনে ওয়ার্কশপ ও অপারেশন ম্যানেজমেন্ট সেন্টারসহ মোট ঊনপঞ্চাশটি স্থাপনা তৈরি হবে। এছাড়া একই লাইনের সিপি-৭ প্যাকেজের আওতায় পাঁচ কিলোমিটারের বেশি ভায়াডাক্ট এবং তিনটি নতুন স্টেশন নির্মাণের চুক্তি হয়েছে সিআরইসি-এমআইএল-এমবিইসি জেভির সঙ্গে। এই অবকাঠামোগুলো নির্মিত হলে পাতাল রেল থেকে উড়াল রেলপথে যাতায়াতের পথ সুগম হবে।

অন্যদিকে, এমআরটি লাইন-৫ এর নর্দার্ন রুটের ডিপো নির্মাণের জন্য সিপি-২ প্যাকেজের কাজ দেওয়া হয়েছে সিপিসি-হানিল জেভিকে, যারা প্রশাসনিক ভবন ও স্ট্যাবলিং ইয়ার্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা গড়ে তুলবে। একই লাইনের সিপি-৩ প্যাকেজের আওতায় হেমায়েতপুর থেকে আমিন বাজার এবং নতুন বাজার থেকে ভাটারা পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ উড়াল রেলপথ নির্মিত হবে। এই অংশের কাজের দায়িত্বেও রয়েছে সিআরইসি-এমআইএল-এমবিইসি জেভি এবং তাদের অধীনে পাঁচটি নতুন স্টেশনও নির্মিত হবে। চুক্তির শর্তানুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এসব নির্মাণকাজ শেষ করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক উল্লেখ করেন যে, রাজধানীর তীব্র যানজট নিরসন এবং নগরবাসীর যাতায়াতের সময় বাঁচানো সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। তিনি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও প্রকৌশলীদের কঠোর নির্দেশ দিয়ে বলেন যে, নির্মাণকাজের গুণগত মান এবং জননিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে প্রকল্প এলাকার পরিবেশগত প্রভাব এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের কল্যাণের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি। এই অনুষ্ঠানে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ জাপান দূতাবাস, জাইকা এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

RELATED ARTICLES

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments