খলিফা হযরত উসমান (রাঃ) এর জীবনী অবলম্বনে দীর্ঘ কবিতা

1
44

খলিফা উসমান
—অনিক উদ্দিন

দুই জ্যোতির অধিকারী উসমান,
ইসলাম ডাকে সাড়া দিলে, দিলে জান কোরবান।
চিরকাল পৃথিবীর বুকে যত বিরোধ বহ্নিতে
কত প্রাণ দিলো খোদার বান্দা নীরবে নিভৃতে,
ইতিহাস তার কতটুকু খোঁজ রাখে?
কতটুকু গোপনে থাকে কতটুকু জগত দেখে?

সেই বিরোধ বহ্নি বিষের ছোবলে
সাম্রাজ্যের কিনারায় কত শত্রু আড়ালে,
পেতেছে নীল ষড়যন্ত্রের অসূয়া বাসনা,
তোমার অন্তর তা বুঝি দেখেও দেখে না।
যে খিলাফত কালে তোমার শিরো ‘পরে
অভিযোগ আসে পরের পন্য ভোগ করে,
তুমি বিলাস ব্যসনে হামেশাই নিজেকে করো উচ্চ,
খোদাই জানেন এই অভিযোগ কি পরিমাণে তুচ্ছ।

তোমার কোমল হৃদয় মাঝে করে নি বিরাজ
অসন্তোষের তপ্ত দহন,তবে যবে আজ
ইসলাম তখতের মাঝে এসেছে মহাবিরোধ,
অশনি সম ফেঁটে পড়ে তোমার স্বজনগনের ক্রোধ।
এমনি কোন্দল মাঝে তোমার খিলাফত,
হাজার মনের মন রক্ষায় পাও নি সবার মত।
নমনীয় ওই হৃদয় মাঝে ছিলো সুপ্ত ক্ষমার দীপ,
সেই কোন্দল ভরা খিলাফতে তুমি ছিলে বিপ্রতীপ।

হাজারো অভিযোগ পাহাড় তোমার সহচর নিতি,
প্রাদেশিক শাসনকর্তার একাংশ ছিলো তোমার স্বজনপ্রীতি,
এই অভিযোগে জর্জরিত ছিলো তোমার সমগ্র মন,
তবুও থামেনি করতে আঘাত তোমার স্বজনগন।
ওমরের খিলাফত কালে এই শাসনকর্তাদের
হয়েছিল করা নিযুক্ত, স্বয়ং খলিফার হুকুমের
বিধানে। তবুও উঠেছে যে ঝড় বিরোধ বহ্নির,
সেই অনলে জ্বলেছিলো তোমার হৃদয়ের নীড়।
ছিলো অভিযোগ গনিমত দৌলত দিয়েছো স্বজন তরে,
মিথ্যা এ অভিযোগ শুধু জানতো খোদার অন্তরে।
অন্যায় ভাবে কোন দান করো নি কো কোনকালে
নিজ ভান্ডার থেকে বিলিয়েছো ধন তুমি অবহেলে।
তথাপি তোমার অভিযোগ তুমি নিজ স্কন্ধে লয়ে,
করেছো সেবা সকলের তরে রাসুলের সম অকুতোভয়ে।

বড় দুঃখের ইতিহাস আজ নতুন করে যদি,
লিখতে হয় তবে চোখের বেদনা অশ্রু নদী
বাঁধ ভেঙে গো পড়বে ধরনীর মহাপ্রান্তরে।
দোষের অশুভ গ্লানির তপ্ত তিক্ত কারাগারে
বারেবারে যদি তোমারে করে প্রেরণ,
জানি খলিফা তোমার চোখ কারে করে অন্বেষণ,
আজ এই চরম মহাবিপদের মহাসন্ধিক্ষনে।
যখন মিশর প্রদেশের যত বিদ্রোহীগনে,
তীব্র ভাষায় তোমার অন্তর করে তিক্ত,
অটল অথচ নম্র ভাষায় যখন করো সিক্ত
তাদের, তবুও ক্রোধের অহির ছোবলে তারা,
খলিফার বুকে ঝরালো ব্যথার নীল গরলের ধারা।

যখন হারালে রাসূলের অঙ্গুরি আরীসের কূপে
তখনই দ্রোহের রুধির ছড়ালো বিষাদ বেদীর যূপে,
মিথ্যা তথ্যের প্রভাবে যখন প্রদেশের বিদ্রোহীগনে
বন্দী করে তোমাকে গৃহে প্রতিশোধ গ্রহনে।
তুমি জানো মিথ্যা এ অভিযোগে
বন্দী করেছে তোমাকে, অবিচল থেকে খিলাফত ত্যাগে
আপন মর্যাদাকে করো নি হীনতার গ্লানিতে জর্জরিত,
করো নি নিন্দার কাছে নিজেকে অবনত।

এমনি অবরোধের পরে
মৃত্যুর পয়গাম এলো তোমার গৃহের অভ্যন্তরে,
যখন তুমি কোরান পাঠেতে মগ্ন,
শত্রুর তরবারী পেলো তখনই এমন লগ্ন,
তোমার রুধির ধারা ঝরালো কোরান পাতায়,
আর পারিনা লিখতে এ কবিতা যে চোখ ভেসে যায়।
সলিল প্লাবনে কেমনে ছন্দ মিলাই
ঝাপসা চোখতে দেখি তোমার রুধির ধারাই।
মৃত্যুর পয়গাম এনে দিলো ওদের ঘৃণিত তরবারী,
আজ কবিতা লিখতে আঁখি অশ্রুর আহাজারি,
কেমনে বাঁধ মানাবো যাঁর শোনিতের ধারা
গড়ায়ে পড়েছে অনেক ব্যথায় ভিজিয়ে কোরান পারা।
বড় দুঃখে আজ মনে পড়ে,
কতটা রুধির কোরানের বুকে ঝরে
পৃথিবীর ইতিহাস তারা করেছে কলঙ্কিত।
জানি না আমি এ প্রতিদান খোদাই দিবেন হয়তো।
জান্নাত মাঝে তোমারে রাসূলের পাশে রেখে,
রক্ত ভেজা কোরান পাতা তখন হাসবে অশ্রুআঁখিতে দেখে।

এ মহান আত্নত্যাগে ইতিহাস আজো কাঁদে,
আজো বুকের মাঝে জিঞ্জির কারার মত বাঁধে
জিগরের চারপাশ বড় নির্মম নির্দয় আঘাতে।
তোমার এই অসহায় প্রয়াণ দুঃখের তিমির রাতে
এখনো হৃদয়ে শেল সম বাজে বড় কস্টের বারতা নিয়া,
দোয়া করো মৃত্যুর হাতে না মরে পরের আঘাত দিয়া
জীবনের শেষ নিঃশ্বাসটুকু যেন গো নিঃশেষ হয়,
তোমার ছায়ার পাশে যেন গো আমার আত্না রয়।

1 COMMENT

  1. মমিনুল ভাইয়ের প্রতিবারের আন্তরিক সহযোগিতাই আমাকে এতখানি পথ চলতে সাহায্য করছে। আমি তার কাছে চিরঋনী। আল্লাহ্ তার মনের আশা পূরন করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here