কবিতা নিয়ে বেড়ে ওঠা সেই কবিতা সঙ্গী বিদ্যুৎ ভৌমিকের শ্রেষ্ঠ কবিতাগুচ্ছ

0
110

যার ছোট থেকে কবিতা নিয়ে বেড়ে ওঠা সেই কবিতা সঙ্গী বিদ্যুৎ ভৌমিকের শ্রেষ্ঠ কবিতাগুচ্ছ

১ ) ~সহজ কথা আয়নায় জটিল দেখায়~ // এবার থেকে আর দেহের পরিচয় তোকে দেবো না ; যদি তুই মাঝরাতে ফোন ক’রে বসিস । এভাবে রাত জেগে নাই- বা ঘুম খারাপ করলি ,– পারিস যদি রবি ঠাকুরের একটা কবিতা বল ; শুনি মন পেতে । সময় পাঠ করে আয়নায় ভাঙি আমার আমিকে *** এতকাল কথা হীন একা হয়ে এখন জীবন টুকু বাতিলের দলে রাখলাম ; তুই যা বলিস সহজ কথা আমি বলতে পারবনা । এভাবে রোজ এই সময় ঘুম ছিঁড়ে জেগে ওঠার পর মনে মনে মরি ; তবুও আবার একবার বাঁচি মরণ ভয়ে । এবার থেকে আয়নায় দেখব না আমাকে ; যদি ভালোবাসা- কে দেখতে পেয়ে যাই । এই নে আমার এতকালের ঘুম *** মরণ পরে নিবি ।।
২ ) ~অঙ্ক পথ অন্যমনস্ক চোখ~ // একই রাস্তায় চোখ ভাসে প্রথমা হাওয়ায় , কবিতার কোল ও কোঠরে ভাবনার কবজকুণ্ডলী চেয়ে নেওয়া টুকু দীর্ঘকাল পৃথিবীর এক গণিতের স্বপ্ন প্রবাহে ভীষণ আত্মিক তবুও দরজা খোলে অভিন্ন মনন ! নানান সত্য থেকে নিছক কিছু নগ্নতা জন্মকালের শ্লীল রেখা টেনে ধরে ; অবৈবাহিক লজ্জায় ! শরীর থেকে খুলে পরে যায় প্রথম মৃত্যুর অদৃষ্ট ,— এখানে অসময়ে চলছে সময় ! ওখানে কূল ভেঙেছে ছন্নছাড়া হৃদয় নির্ভুলে । যদিও রাস্তার ভেতর শহরতলির বৃষ্টি ভেজায় অতলান্ত ; অমলিন বিছানায় ! এরপর রাস্তা চলে একা একা অবান্ধব ,—– যদিও চেয়েছি সনাতন মরণ । মৃত্যু যেন উড়ে চ’লে যায় ! চোখের চতুর্দিকে বকুনির শাণিত দৃষ্টির ভীড় ; বয়ঃসন্ধির আপাতত কারণে । এই মন জ্বলে ওঠে শ্মশানের উষ্ণ দহনে —– অদেখা অনেকটাই ছিল অরক্ষিত সম্পদের মতো ; তবুও অশেষ ছিলনা স্মৃতি নয়ন ! একই লজ্জা কথা বলেছি প্রতিদিন প্রতিরাতে ,—- অঙ্ক পথে মন নিদ্রায় চোলে গেলে ; মৃত্যু আসতে সময় লাগেনা ! মরেছি কতবার অনেক ভাবে , তবু বেঁচে ওঠার জ্বালা অন্যমনস্ক চোখে অশ্রু এনে দেয় । সেই অক্ষরবৃত্তে ভাসছে রক্তবীজের ফল একমাত্র অলক্ষ্যে ভেঙেছে মন ; মৃত্যুর একপ্রস্ত ধ্যানে অর্ধেক বেঁচে থাকা জীবন বাষ্পে বাষ্পে ঘুরে-ঘুরে মরে !! ৩ ) ~কমরেড আমার প্রতিবেশি~ আকাশ বোঝাই চোখ ; প্রত্যন্তে দৃষ্টি তাড়িয়ে ফিরি —- মেঘ ব’লেছে পদ্য ছাড়া সবটাই বিবিধ বিশ্বায়ন চাঁদ ছন্দ দোষে উপবাসী , ঈথারে রবীন্দ্রনাথ নোবেলের শোকে অর্ধেক পাগল ! এই হাত শঙ্খ – ঘণ্টা – এবং বৈদিক উচ্চারণ থামিয়ে বুঝিয়েছে ব্যাপ্ত হতে ; নির্ভেজাল নীরবে কাছে নিতে , অথচ বুকের বামদিকে ঈশ্বর স্মৃতি পাপে ডোবে ! বিশ্বাস ছিল সে বছরের প্রথম বৃষ্টিতে পোশাকের অতলান্তে এ শহরের বেকারত্বের চেহারাগুলো হিসাব করবে এতকালের কান্না ,—- কিন্তু বৃষ্টির দুপুরে ভীড় বাসে পাঁচ টাকা পঁচাত্তর দিতে দিতে মনের গভীরে খোঁড়ে মরণের ফাঁদ —- সব কথা না হয় থাক । এরা যেন ডাকে চোখ পেতে ; পোকায় কেটেছে ওদের তারুণ্য ওরা এখনো এদেশে বিপ্লব করে ,— ছিঃ সেই ১৯৭০ , একগাল দাড়ি – গোঁফ চোয়াল ঢোকা হলুদ চোখগুলো মনে আছে কি ? এরা কমরেড নাম নিয়ে বর্বর আক্রমণের সামনে এখনো রুখে দাঁড়ায় —- ভিখারিরা ইটের উনুনে যে ভাবে চাল – ডাল সেদ্ধ করে প্রতিদিন ***** চাল ফোটে টগ বগ – টগ বগ , সেখানে কবিতার উপস্থিতি বদলে দিয়েছে এ্যালবামের প্রতিটি সাদাকালো ছবি ! আকাশ বোঝাই চোখ ; হায়রে প্রেম পলাশ রঙা চাঁদ তুই এবং তোর উত্তাপ সস্তার কলঙ্কে মাখা ,—- একে তুই গভীরে নিতে চাস ? মেঘ বলেছে প্রণাম নিবি , স্বপ্ন নিবি , — তোর মতো সে ও কী দ্বিগুণ ফিসফিসিয়ে কথা বলে ! দেশের খাতায় চোরের হিসেব হাত পেতে নিয়েছিলো দলছুট ভগবানের চেলা মাটিতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ছিল ; সাদা সাদা ভাত এবং স্বাধীনতা !! ৪ ) ~একটি স্পর্ধার কবিতা~ // এক বিছানায় রাত কেটেছে ; সেই বিছানায় সকাল এরই মধ্যে সহজ পাঠ্য এই শরীরে ভীষণ রকম অতলান্তে ঠাণ্ডা লাগে , গরম লাগে ! প্রথম থেকেই এক দেহেতে কান্না ওঠে ; চোখের জল শুকিয়ে গেলে হাসি ওঠে কম্প দিয়ে ,—- এই ঘরেতে সকাল-রাত্রি আমার পাওয়া দ্বিতীয় জগত কবিতা আমার একান্ত অনির্দিষ্ট নারী সেই কারণে স্পর্ধাটুকু অফুরান অদেখায় বনান্তের বাতাস নির্জন , আমার ঘরের আমার কথা আমি শুনি মন বাড়িয়ে — গোটা সিগারেট খাই ব’লে কি পোড়াই আমার অতলান্ত ঘুমের ভেতর নগ্ন হয়ে নেচে ওঠে বেদ – বেদান্ত ! রাতের আকাশ বিশ্রীভাবে চাঁদ জ্বালিয়ে তাকিয়ে দেখে ; এই পৃথিবীর প্রাচীন নাটক সর্বোপরি নিজেই লেখে **** ছায়া আমার অন্তরীক্ষে ভিজেই ওঠে বৃষ্টি স্নানে অসহিষ্ণু এই হৃদয়ে পুরুষ পাখি কেঁদে চলে অভিমানে ! আকাশ পথে চোখ রেখেছি ; পায়ের কাছে আগুন মাটি তবু যেন নির্নিমেষে ব’লতে হবে ; এই সময়টা ভীষণ খাটি ,—– যখন তখন ক্রোধ এসে যায় গর্ভে নাচে ভূত – ভবিষ্যৎ এই বয়েসে চলতে চলতে অন্ধ হয়ে হারাই যে পথ ! ইচ্ছাকৃত —- এই বিছানায় সুখ এসেছে ; মৃত্যু নিয়ে ভাঙছে হৃদয় , দেওয়াল বিহীন আমার আমি অবুঝ অটুট শুধু প্রেমময় ! ! ৫ ) ~পরিযায়ী অথবা অন্য কোন আকাশচারী~ এরপর দলছুট হ’লে সময় নির্বাক হয় / আলস্যে খুলেছি চোখ ; ভিতরে নিয়েছি জানালার ওপাশের বৃষ্টি / এরপর কবিতার কাছে এই শরীর ডুবেছে অপরিহার্য কিছু পাবার জন্য ! / যতকিছু শর্ত ,— তার থেকে চৌকাঠ বেশি দূরে নয় ! / এখানে সর্বকালের পর্যটকরা অভাগার ছদ্মবেশ নিয়ে আদ্যোপান্ত মরে ; আমি মরি অন্য কোন একদিন / তবুও প্রাণ আছে অচেনা রাস্তায় ,—- / সুতরাং এভাবেই ফিরে আসি অনেকটা পথ ঘুরে ঘুরে । / বেলা শেষে বহুবিধ খেলা চলে ; অন্য এক জীবনের ভূমিষ্ঠ হবার গল্পে পৃথিবীর শ্মশান হেসে ওঠে আগামীর মৃত্যুর বার্তা পেয়ে ! / কেউ একজন না থেমে আমার সঙ্গে ঘুরেছে একটানা অনেকটা বছর ,—- সে আত্মবীজ নয় তো দুপুর রোদের ছায়া । / এভাবেই চলছে আমার আসা আর যাওয়া / এভাবেই মধ্যরাতের ঘুমন্ত পাখিকে জাগরণের যন্ত্রণা দিতে ভালো লাগে ! / যাবার ইচ্ছা নিয়ে ভ্রমেছি অনন্ত স্বপ্নে / শেষ প্রশ্বাসের কথা অন্ধকারে শুনিয়েছে ওপাড়ের স্মৃতি / বুকের ঠিক গভীরে ঘর ও মিছিলের গন্ধ ; সেটা নাকি আদোল আঁকা অভিশাপ ! / এখানে বিষ পান করতে সবাই ফিরে আসে ,—- এখানে স্বপ্ন দেখার প্রত্যাহার চেয়ে একেবারে তৃতীয় অবস্থানকে বেদনাবোধে বেঁধে বুকের পাটা দেখিয়ে চলে জীবন ! / শেষ একবার নবীন ডানার ছন্দ জীবাণু নিয়ে ঊড়লো ; তাকে ধরতেই আমার ইতিহাস মাখা মৃত্যু সুদীর্ঘ সময়ের সাক্ষী থেকেছে ! পরিযায়ী অথবা অন্য কোন আকাশচারী ,— চোখের মধ্যে রাখে গোপন সংকেত ! /

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here