বনানীর রেস্টুরেন্টে ক্যাসিনো মেশিন ‘মাহাজং

0
34
বনানীর নিউ ড্রাগন চাইনিজ নামে একটি রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়ে ক্যাসিনো মেশিন ‘মাহাজং’ উদ্ধার করে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। ছবি : সময়ের কলম

শিরিন সিমা ঢাকা :রাজধানীর বনানী থেকে হংকং ও ম্যাকাওয়ের বিখ্যাত ক্যাসিনো মেশিন ‘মাহাজং’ উদ্ধার হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ বুধবার দুপুর ১টার দিকে নিউ ড্রাগন চাইনিজ নামে একটি রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়ে জুয়ার সামগ্রীগুলো উদ্ধার করে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

অভিযানটি পরিচালনা করেন কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ নেয়াজুর রহমান ও শামীমা আক্তার। ১০ সদস্য বিশিষ্ট একটি গোয়েন্দা দল নিয়ে বনানীর ‘এ’ ব্লকের ১৮ নম্বরের সড়কের ২৩ নম্বর বাড়ির দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত নিউ ড্রাগন নামক চাইনিজ রেস্টুরেন্ট থেকে ক্যাসিনো সামগ্রী উদ্ধার করেন তারা।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. শহীদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আমরা জানতে পারি বনানীর নিউ ড্রাগন চাইনিজ রেস্টুরেন্টে জুয়ার আসর বসে, এবং সেখানে ক্যাসিনো সামগ্রীও রয়েছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের ১২ সদস্যের একটি দল রেস্টুরেন্টটিতে অভিযান চালায়। সেখান থেকে হংকং ও ম্যাকাওয়ের বিখ্যাত গ্যাম্বলিং মেশিন ‘মাহাজং’ উদ্ধার করেন তারা।

তিনি জানান, ওই রেস্টুরেন্ট থেকে ৭ সেট মাহাজং মেশিন পাওয়া যায়। যার আনুমানিক মূল্য ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের অনুসন্ধানে দেখা যায়, নিনাদ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামক একটি কোম্পানি ২০১৮ সনের জুলাই মাসে চায়না থেকে এই ক্যাসিনো মেশিন আমদানি করে। ২০টি কার্টুনে ৭ সেট মাহাজং মেশিন আনা হয়। এই মেশিনগুলো ওই কোম্পানি বিভিন্ন চাইনিজ রেস্টুরেন্ট ও ব্যক্তি মালিকানায় বিক্রি করে।

জানা গেছে, নিউ ড্রাগন চাইনিজ রেস্টুরেন্টে চীনা নাগরিকদের আনাগোনা ছিল, যারা জুয়া খেলতেন।

এই মেশিনগুলো আমদানিতে আন্ডার ইনভয়েসিং করে বিপুল পরিমান শুল্ক ফাঁকি দেওয়া হয়েছে বলেও জানান কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. শহীদুল ইসলাম। তিনি বলেন, মেশিনগুলোর মূল্য ৪৭ হাজার ৮১৫ টাকা ঘোষণা দিয়ে পণ্যচালান খালাস করেছে নিনাদ ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল।

কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা যায়, এ ধরনের প্রতিটি ইলেক্ট্রিক মেশিনের আনুমানিক দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা। সে মোতাবেক ৭ সেট মেশিনের মূল্য ১৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এই হিসেবে এই সাতটি মেশিনের মূল্য আমদানি পর্যায়ে প্রযোজ্য শুল্ক করাদির পরিমান দাঁড়ায় আরও ১০ লাখ ২৫ হাজার টাকা। কিন্তু ওই কোম্পানি আমদানি পর্যায়ে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে ৯ লাখ ৯৬ হাজার টাকা শুল্ককর ফাঁকি দিয়েছে।

শহীদুল ইসলাম আরও জানান, দেশে এই মেশিনগুলো আরও আছে কী না তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। ওই কোম্পানি ও রেস্টুরেন্টের বিরুদ্ধে পণ্যচালানের শুল্ক ফাঁকির বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া নেওয়া হচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here