খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে অবজ্ঞা-উপহাস না করে দ্রুত মুক্তি দিন : রিজভী

0
113

এম, এন, বি, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেত্রী উল্লেখ করে দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কারাবন্দীত্বের আজ ৫৬০তম কালিমালিপ্ত দিবস। সুচিকিৎসার অভাবে চারবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রীর শারিরীক অবস্থার ক্রমাগত অবনতি ঘটছে। ৭৫ বছর বয়স্কা দেশনেত্রীর অসুস্থতা নিয়ে অবজ্ঞা-উপহাস না করে দ্রুত তাকে মুক্তি দিন। তাকে ফিরে পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছে দুখিনি বাংলাদেশ।’

আজ বুধবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রিজভী বলেন, সারাদেশের সর্বস্তরের মানুষের অব্যাহত দাবীর পরও সম্পূর্ণ নিরপরাধ দেশনেত্রীকে শুধুমাত্র প্রতিহিংসাপরায়ণতা চরিতার্থে ক্ষমতার মত্ততায় কারারুদ্ধ রাখা হয়েছে। বেগম খালেদা জিয়ার আতংকে মিডনাইট সরকার প্রহর পার করছে। চোর যেমন গৃহস্থের ভয়ে সন্ত্রস্ত থাকে এই অবৈধ সরকারের অবস্থা হয়েছে ঠিক তেমন। প্রকাশ্যে স্বগর্বে ঘোষণা দিয়ে তার জামিনে বাধা দেয়া হচ্ছে। দেশনেত্রীর অসুস্থতা নিয়ে উপহাস করে নিজেরাই চিকিৎসার জন্য বিদেশে দৌড়াচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী চোখের চিকিৎসার কথা বলে দুই দফায় দীর্ঘদিন লন্ডনে থেকে এসেছেন। শুধুমাত্র চোখের অপারেশনে এতো দিন সময় লাগে কি না তা নিয়ে আমাদের কিছু বলার কিছু নেই। রোগ-ব্যাধি-জরা বলে কয়ে আসে না।’

রিজভী আরো বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উর্দ্ধতন একজন কর্মকর্তা এক ব্রিফিংয়ে বলেছেন, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আর বাড়বে না। কিন্তু পরিস্থিতিতে দেখা যাচ্ছে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে রোগীর সংখ্যা ও লাশের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে। এখন ঢাকার বাইরেও ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে বিস্তার লাভ করছে। সরকারের পক্ষ থেকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তির যে সংখ্যা প্রকাশ করা হচ্ছে সেটি প্রকৃত সংখ্যার চেয়ে অনেক কম। অনেক প্রাইভেট হাসপাতাল এবং হাসপাতালে ভর্তি না হতে পেরে যারা বাসায় চিকিৎসা নিচ্ছেন তাদের সংখ্যা সরকারী পরিসংখ্যানে উল্লেখ করা হয় না। বাস্তব ঘটনা হচ্ছে সরকার ডেঙ্গু মহামারীতে আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা প্রকাশ নিয়ন্ত্রণ করছেন। প্রতিদিন দেশের কোন না কোন অঞ্চলে বা হাসপাতালে অকাল মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে মানুষ। রোগীতে ঠাসা দেশের সরকারী বেসরকারী হাসপাতালগুলো। এমনকি সরকারী হাসপাতালগুলো খালিস্থানে অতিরিক্ত বেডের ব্যবস্থা করেও ঠেকানো যাচ্ছে না ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের ঢল। ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা শতাধিক ছাড়ালেও সরকার এ নিয়ে এখনও গুজব আবিস্কারের মধ্যেই আছে। ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র বলেছেন-এডিস মশা মারার জন্য কার্যকর ঔষধ আনা হয়েছে। প্রকৃত অবস্থা হচ্ছে এই ছিটানো ঔষধে এডিস মশা আরো উৎসাহিত হয়ে সন্তান সন্তুতি ব্যাপকভাবে উৎপাদন করে যাচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে যা বলা হচ্ছে তা রীতিমত বাকওয়াস। ডেঙ্গু মরণের বার্তা নিয়ে হাজির হয়েছে দেশের মধ্যে। ডেঙ্গু আক্রমণের পূর্বেই প্রস্তুতির অভাব এবং ডেঙ্গু রোগে মহামারীতে সারাদেশ আক্রান্ত হওয়ার পরও সরকারের উচ্ছাস ও তামাশারও কোন কমতি নেই। তাই আওয়ামী নেতা-মন্ত্রীদের ফটোসেশনে কাজ হবে না, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা।’

দেশব্যাপী হত্যা, গুম, গলাকাটাকে পরম যত্মে লালন করা হচ্ছে অভিযোগ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘ক্ষমতাসীনদের পৃষ্ঠপোষকতায় বেআইনী কার্যক্রমকে উৎসাহিত করার জন্যই মানুষ এখন পণ্যে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই শিশু, কিশোর, যুবক, ব্যবসায়ী, ছাত্র, মানবাধিকার কর্মী হয় গুম হচ্ছে, না হয় তাদের গলাকাটা লাশ পাওয়া যাচ্ছে। ফেনীতে নিখোঁজের ৭ দিন পর স্কুল ছাত্রের লাশ উদ্ধার, লক্ষীপুরে আলমগীর হোসেন নামে ব্যবসায়ীকে গলাকেটে হত্যা, হবিগঞ্জে কিশোর সুমন মিয়ার এক মাস দশদিন পার হয়ে গেলেও কোন সন্ধান মেলেনি। এগুলোই এখন সংবাদ মাধ্যমে শিরোনাম। গুম, ক্রসফায়ারের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান। দেশজুড়ে যেন এক অন্ধকার শ্বাসরোধী পরিবেশ।.

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here