ফের আতঙ্ক জাতীয় হৃদরোগ হাসপাতালের ওটিতে!

0
113

সময়ের কলম:: ঢাকা:: গত বছরের অক্টোবর মাস থেকে চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ ছিল জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটার (ওটি)। মূলত ব্যাপক রোগ-জীবাণু আক্রমণ করায় মেরামতের কাজে বন্ধ করা রাখা হয়। সেই আতঙ্ক ফের দেখা দিয়েছে হাসপাতালটিতে।

নিয়মিত ওটি জীবাণুমুক্তকরণ প্রক্রিয়া ও উন্নয়নের কাজের জন্য বর্তমানে প্রায় বন্ধ বা একেবারে ধীরগতিতে চলছে অপারেশন থিয়েটারের কাজ। এছাড়া গত তিনদিন পানির সঙ্কট ছিল হাসপাতালটিতে। ফলে ওয়ার্ডগুলোসহ বাথরুমগুলো ছিল বেশ নোংরা। রোগীদের জন্য যা অস্বাস্থ্যকর ছিল। সব মিলিয়ে এ কারণেই ফের আতঙ্ক বিরাজ করছে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে।

সোমবার (২৪ জুন) হাসপাতালটিতে সরেজমিনে ঘুরে জানা যায় এ আতঙ্কের কথা। তবে হাসপাতাল পরিচালক নিশ্চিত করেছেন এতে আতঙ্কের কিছু নেই।

হৃদরোগ হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ফের অপারেশন থিয়েটার ও আইসিইউতে রোগ-জীবাণুর আক্রমণ লক্ষ্য করা গেছে। তবে ওটি স্টেরিলাইজেশনের মাধ্যমে জীবাণুমুক্ত করার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ছাড়াও নতুন রোগীদের অপারেশনের জন্য আপডেটেড প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় সেগুলো স্থাপনের কাজে অপারেশন থিয়েটারের কাজ বিঘ্নিত হচ্ছে।

এছাড়া রোগীদের মধ্যে হাসপাতালে অবস্থানের আতঙ্ক বাড়িয়ে দিচ্ছে বলেও জানা যায়। তবে টানা তিনদিন পানির পাম্প নষ্ট থাকার পর সোমবার আবার চালু হয়েছে। পানি সঙ্কট থাকায় হাসপাতালের বাথরুমসহ ওয়ার্ডগুলো আগের চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি নোংরা ছিল। এছাড়া প্রায় এক সপ্তাহ পর পুরোপুরি চালু হবে অপারেশন থিয়েটার ও আইসিইউ।

এ বিষয়ে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের সাড়ে চার বছর বয়সী মিথিলার বাবা লতিফ সিদ্দিক বলেন, অপারেশন হবে না জানিয়ে আমার মেয়েকে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দিয়ে দেওয়া হয়েছে। ডাক্তার বলেছেন, অপারেশন থিয়েটার রোগ-জীবাণু দিয়ে পরিপূর্ণ। এটা স্টেরিলাইজেশন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিষ্কার করা হচ্ছে। আমার ছোট সাড়ে চার বছর বয়সী মেয়ের হার্টে রিং পরানোসহ ফুসফুসে ইনফেকশন আছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ভর্তি থাকার পরও অপারেশন সম্পন্ন হয়নি। এখন ডাক্তাররাও কোনো পরবর্তী নির্দেশনা দেননি। অন্য জায়গা থেকে দ্রুত অপারেশন করিয়ে নিতে বলেছে। কিন্তু আমি রিকশা চালাই, অত বেশি টাকা কোথায় পাবো।

অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণে এমনিতেই হাসপাতালে গুমোট অবস্থা বিরাজ করে। তার উপর এসব বিষয়ে হাসপাতালে রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে বলে জানা যায় রোগীদের সঙ্গে কথা বলে।

হৃদরোগ হাসপাতালের তিন নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়া জয়তুন বেগম নামে এক রোগীর স্বজন বলেন, গত তিন দিন ধরে হাসপাতালে পানি ছিল না। আজ আসছে। তবে এই তিনদিন হাসপাতালে একটা আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজমান ছিল। মূলত রোগ-জীবাণু আক্রমণের ফলে অপারেশন থিয়েটারের কার্যক্রম বন্ধ থাকার কারণে আতঙ্কটা বেশি ছড়িয়েছে। এদিকে ওয়ার্ডগুলো ধোয়া-মোছার কাজ কম হয়েছে এবং বাথরুমগুলো নোংরা হয়ে পড়ে আছে।

সামগ্রিক বিষয়ে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আফজালুর রহমান জানান, হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের অপারেশন থিয়েটার ও আইসিইউ আধুনিকায়নের কাজ চলছে। নতুন পাঁচটি হার্ট লাং মেশিন, আধুনিক মোট ৬৫টি আইসিইউ বেড, ৬টি ভেনটিলেশন মেশিন, অ্যানেস্থেশিয়া মেশিনসহ আরো অনেক আধুনিক মেশিনপত্র কেনা হয়েছে এবং তা স্থাপনের কাজ চলছে।

এছাড়া অপারেশন থিয়েটার স্টেরিলাইজেশনের মাধ্যমে জীবাণুমুক্ত করা হচ্ছে। এ কারণে অপারেশনে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটছে। তবে এজন্য রোগীদের বিচলত আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। আর পানির পাম্প নষ্ট ছিল সেটা আজ ঠিক হয়ে গেছে। এখন আর পানি সংক্রান্ত কোনো সমস্যা নেই ও থাকবে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here