নীলিমা ইয়াসমিনের ‘নারী ও পুরুষের বৈষম্য’ পর্ব ৬

0
115

সময়ের কলমে নীলিমা::
একটি দেশ, জাতি এবং সমাজে আমরা পুরুষ এবং নারী বলতে আমরা কী বুঝি সবই কি আমাদের জানা এবং শেখা।প্রত্যেকটি সমাজ নারী এবং পুরুষের কাছ থেকে নির্দিষ্ট কিছু আচার আচরণ মনোভাব, মুল্যবোধ প্রত্যাশা করে।এক কথায় সমাজ মনে করে কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্য পুরুষের জন্য যথাযথ আর কিছু নারীর জন্য।

নারী হবে কাঁদুনে, পুরুষের কাঁদতে মানা।নারীর থাকতে হবে রূপ, সেটাই তাঁদের সম্পদ।পুরুষের থাকতে হবে টাকা এবং ক্ষমতা।এই সমাজই তার সদস্যদের নারী এবং পুরুষ করে গড়ে তোলে।গড়ে তোলার এই প্রক্রিয়াই
হলো জেন্ডার ভূমিকার সামাজিকীকরণ।

সমাজে নারী পুরুষ সম্পর্কে নানা ধারনা তো থাকবেই।এতে আমাদের সমস্যা কি? এই জেন্ডার নির্মাণ প্রশ্ন সাপেক্ষ হয়ে ওঠে, কেননা এর মধ্যে দিয়েই নারী পুরুষ
কে কতটুকু সন্মান ও সুযোগ সুবিধা পাবে অধিকার পাবে।
কার কতটুকু মুল্য সেটিও নির্ধারণ করা হচ্ছে।খাদ্যে থেকে শুরু করে শিক্ষা, সম্পদও ক্ষমতা সব কিছু বন্টনের বেলায়ই জেন্ডার একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।এই বন্টনের বেলায় নারীকে দেওয়া হয় পুরুষের তুলনায় কম।রীতিনীতি ধর্ম আইন দিয়ে এই বৈষম্যকে বৈধ করে তোলা হয়।
আমাদের সমাজে যে জেন্ডার বৈষম্য রয়েছে সেটি আমরা সবাই জানি।জানি তা নারীকে তার পূর্ণ শক্তিতে
রূপান্তরিত হতে দিচ্ছেনা।তবে যে বিষয়টি নিয়ে আমরা
একটু কম আলোচনা করি তাহলো জেন্ডার বৈষম্য কিন্তু
পুরুষকেও সীমাবদ্ব করে রাখছে।নানা ধরনের সহিংস আচরণ যেমন- হত্যা, ধর্ষণ এসিড নিক্ষেপ তার মূল শিকার হচ্ছে নারী সেটি খুব ভয়াবহ।
আর এই বিষয়টি ও কি ভয়াবহ নয় যে নির্যাতনকারীরা বেশিরভাগই পুরুষ।সন্তান পালন, সেবাযত্ন সৌন্দর্যবোধের মতো মানবিক গুণগুলোকেও মনে করা হয় নারীর একচেটিয়া।নারীকে ঠেলে দেয়া হয় গৃহের সীমাবদ্বতায়।এদিকে পুরুষকে প্রলুব্ধ করা হয় নিয়ন্ত্রক হওয়ার এক অসম প্রতিযোগিতায়।শক্তি প্রদর্শন করার প্রতিযোগিতা।
বিনোদনের প্রধান মাধ্যম টিভি চলচ্চিত্রে, এখন নারী শরিরের কুৎসিত প্রদর্শনই বিনোদন।ধর্ষণ প্রায় ছবিতেই ধর্ষণ। পুরুষের অশ্লীল গালাগালি, বীভৎস খুন রক্তের
নারকীয়তা, বিকৃত নির্যাতন, আসন্নপ্রসবা নারীর পেটে লাথি মারা সবই বিনোদন।
আর বিজ্ঞাপন গুলোতে নারী রাধুনী।নারী কোমল পানীয়ের মতো।আর পুরুষ হলো এমন প্রাণী, যে ফর্সারঙা নারী দেখতে পায়, পাউডারের গন্ধে মাথা খারাপ হয়ে সে পাগলের মতো নারীে পেছনে ধাওয়া করে।
নারী পণ্য পুরুষ পণ্য।অস্বীকার করার উপায় নেই জেন্ডার বিশ্লেষণে এইগুলি গনমাধ্যমের একটি ডমিনেন্ট ম্যাসেজ।
তাহলে কিভাবে আমাদের চিন্তা বদলাবে, নারী পুরুষের
সম্পর্ক বদলাবে, নারীর ওপর নির্যাতন বন্ধ হবে।প্রতিষ্ঠিত হবে সুন্দর সমাজ।

সবশেষে কবি নজরুলের কিছু কথা*****–
নারীর অঙ্গ পরশ লভিয়া হয়েছে অলন্কার।
নারীর বিরহে, নারীর মিলনে, নরপেল কবি প্রাণ
যত কথাতার হইলো কবিতা, শব্দ হইল গান
নরদিলো ক্ষুধা, নারী দিলো সুধা, সুধায় ক্ষুধায় মিলে
জন্ম লভিছে মহামানবের মহা শিশু তিলে তিলে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here