হিন্দু শাস্ত্রের বিধানে নারীর অবস্থান: নারী পর্ব ৫

0
193

নারী পর্ব—-৫ হিন্দু শাস্ত্রের বিধানে নারীর অবস্থান।

সময়ের কলমে নীলিমা:: শতাব্দীর পর শতাব্দী নারী খু্ঁজে চলছে নিজেকে। অত্যাচার, কষ্ট, লাঞ্ছনা,অবহেলা সয়ে সয়ে চলেছে নারী।তবুও সে জানেনা,সেই শুরু থেকে সে মূলত নিজেকেই সন্ধান করে চলছে।

আজ জানবো হিন্দু শাস্ত্রের বিধানে নারীর অবস্থান।
প্রথমে স্বামী দয়ানন্দ সরস্বতীজী মহারাজ কৃত “সতীর্থ প্রকাশ ” এর উদ্ধৃতিটির প্রতি লক্ষ্য করুনঃ
১/বর কনে পূর্ণ ব্রাহ্মচারী,প্রাজ্ঞ ধার্মিক ও সচ্চরিত্র।তাদের পারস্পরিক সম্মতিতে যে বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়,তাকে ব্রাহ্ম বিবাহ বলে।
২/বিরাট জাঁকজমকপূর্ণ উত্তমরূপে যজ্ঞানুষ্ঠান সম্পন্ন করে জামাতাকে সালঙ্কারা কন্যা প্রদান কে “দৈব বিবাহ” বলে।
৩/বরদের থেকে কিছু গ্রহণ করা হলে তাকে “আর্য বিবাহ” বলে।
৪/স্বীয় ধর্মের উন্নতিকালে উভয়ের বিবাহ হলে তাকে “প্রাজাপত্য ” বিবাহ বলে।
৫/বর কতৃক কনেকে পণ দিয়ে বিয়ে হলে তাকে “অাসুর বিবাহ” বলে।
৬/নির্জনে পাত্রপাত্রী প্রেম করে স্বেচ্ছায় বিবাহ করার নাম “গান্ধর্ব” বিবাহ।
৭/জোর করে কেরে নিয়ে ছলনা করে যে বিবাহ করা হয় তাকে বলে “রাক্ষস বিবাহ”।
৮/ঘুমন্ত কিংবা নেশা বা মদ পান করে অজ্ঞান বা উম্মাদ কনের শয্যা গ্রহণ করাকে বলে ” পিশাচ বিবাহ।
সতীর্থ প্রকাশ,চতূর্থ অধ্যায়।
পরিবার কিংবা কয়েক ভাইয়ের এক স্ত্রী প্রথা প্রাচীন ভারতবর্ষের এক সুপরিচিত পদ্ধতি।
মনুস্মৃতির নবম অধ্যায়ের উনষাট নম্বর শ্লোকের সারমর্ম হলো এইঃ হিন্দু ব্রাহ্মণদের মধ্যে নিয়োগ পদ্ধতি চালু আছে যে, স্বামীর দ্বারা সন্তান জন্ম না হলে স্ত্রী তার শশুর প্রমুখের নির্দেশক্রমে কোনো নিকটাত্মীয়ের বা দেবর দ্বারা পছন্দ মতো সন্তান জন্ম দিতে পারবে।

সতীর্থ প্রকাশ গ্রন্থে আছেঃ
স্ত্রী বন্ধা হলে অর্থাৎ বিয়ের আট বছরের মধ্যে স্ত্রী গর্ভবতী না হলে অথবা সন্তান জন্মের পরে সন্তান মারা গেলে,দশম বছর পর্যন্ত পুত্র সন্তান না হয়ে বার বার কন্যা সন্তান হলে, একাদশ বছরে স্ত্রী অপ্রিয়ভাষিণী হলে সত্বর তাকে, পরিত্যাগ করে অপর স্ত্রীলোকের সাথে মিশে সন্তান উৎপাদন করবে।
আবার তেমন ভাবে স্বামী চরম উৎপীরক হলে স্ত্রী তাকে পরিত্যাগ করে অন্য লোকের সাথে মিশে সন্তান উৎপাদন করতে পারবে এবং উৎপাদিত সন্তান কে ওই বিবাহিত স্বামীর উত্তরাধিকারী বানাতে পারবে।
স্বামী যদি সন্তান উৎপাদন অক্ষম হয় তবে স্বীয় স্ত্রীকে এই মর্মে অনুমতি দিবে যেঃ
হে সন্তান অভিলাষিণী সংক্ষিপ্ত ভাষায় অন্যের সাথে মিলে সন্তান জন্ম দাও,এবং ওই স্ত্রী স্বামীর সেবায়ও নিয়োজিত থাকবে।
আবার ঠিক স্ত্রী অক্ষম হলে স্বামীকে একই অনুমতি দিবে।
এরকম প্রথা আরো বিশ প্রকার ওই গ্রন্থে বর্নিত আছে। এই বিয়ে শাদী প্রথা।
এখন শুনুন নারীর রূপ প্রকৃতি সম্পর্কে ঃ
হিন্দু শাস্ত্র বলেঃ মৃত্যু, নিরয়,হলাহল,,নিয়তি, ঝঞ্ঝা, আশীবিষ এগুলোর কোনটাই ততোটাই খারাপ (অলুক্ষণে) নয়, যতোটা খারাপ নারী।
মনুষ্য বিধান বলেঃ নারী শিশুকালে পিতার অধীন, পূর্ণ বয়ষে স্বামীর,তারপরে পুত্রের, আর পুত্র না থাকলে আত্মীয় স্বজনের।
কেননা কোন নারীই স্বাধীনভাবে জীবন যাপনের উপযুক্ত নয়।
এতোসব উদ্ধৃতি দেয়ার কারণ হলো,নারীর মান সন্মান তথা তাদের জাতিসত্তায় বিভিন্ন ধর্মের অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করা।
আমরা আমাদেরকে জেনে আমাদেরকেই তৈরি করতে হবে সেই মুক্তির রাজপথ।
আজ এটুকু
সমস্ত মেয়েদের বলছি একটু কষ্ট করে নিজেকে জানুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here