নারী পর্ব–৩

0
132

নীলিমা ইয়াসমিনঃ জাহেলীয়াত যুগে বিবাহ পদ্ধতিঃ
বর্বর জাহেলীয়াত যুগে চার ধরনের বিবাহ পদ্ধতি চালু ছিলো

১/যা বর্তমানে প্রচলিত আছে।এক প্রকার এরকম ছিলো।
২/স্বামী বিবাহিতা স্ত্রী কে বলতো,ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে পবিত্র হওয়ার পর তুমি অমুক ব্যক্তির নিকট কাছে চলে যাবে এবং তারা দ্বারা মজা লুটে নিবে,অর্থাৎ ওই পুরুষের সাথে সংগম করবে। যতদিন পর্যন্ত ঐ পুরুষটির দ্বারা তার স্ত্রী গর্ভবতী হওয়ার আলামত প্রকাশ না পেতো, ততদিন সে নিজে স্ত্রী সংগমে বিরত থাকতো।অপর পুরুষ,দ্বারা গর্ভবতী হলেই কেবল সে তার,ইচ্ছা অনুযায়ী স্ত্রীর কাছে যেত।বর্বর যুগের লোকদের ধারনা ছিলো, এই পদ্ধতির মাধ্যমে সন্তান উৎকৃষ্ট ও অভিজাত শ্রেনির হয়।এই বিবাহকে “ইনতিরযা ” বলা হয়।
সন্তানের বীজ ভিন পুরুষের থেকে লাভ করার এ ছিলো একটা পন্থা বিশেষ।

৩/তৃতীয় প্রকারের বিবাহ ছিলো,একজন নারীকে কয়েকজন পুরুষ নিলে ভোগ করতো।তাদের সংখ্যা দশজনের মতো হইতো।স্ত্রী লোকটি গর্ভবতী হলে হয়ে সন্তানে প্রসবের কয়দিন পর লোক মারফত তাদের সবাইকে ডাকতো।কেউ আসতে অস্বীকার করার দুঃসাহস করতে পারতোনা।সবাই উপস্থিত হলে স্ত্রী লোকটি বলতো,তোমরা নিজের কৃতকর্মের ব্যাপারে নিশ্চয়ই অবগত আছো।আমার সাথে তোমরা যৌন মিলন করতে আসতে। এখন আমার সন্তান ভূমিষ্ট হয়েছে। অতএব একজনের দিকে নির্দেশ দিয়ে বলতো এটি তোমার সন্তান।তোমার পছন্দ মাফিক এর নাম রাখো।এই ভাবো স্ত্রী লোকটি যে লোকটি যে ব্যাক্তির নাম বলতো।সে ওই নবজাতকের পিতা হইতো।তার অস্বীকার করার কোন কারন বা সুযোগ ছিলোনা।
৪/কোন কোন নারী গৃহদ্বারে ঝান্ডা লাগানো থাকতো।এ সব নারী পেশাদার বাজারী পতিতা ছিলো।তাদের সাথে সংগম করার সবারই অধিকার ছিলো।সন্তান প্রসবের পর সকল সংগমকারী এসে একত্রিত হতো।অবশেষে গনককে খবর দেয়া হইতো। গনক যাকে শিশুর পিতা বলে দিতো, সেই শিশুর পিতা হতো। এ পিতৃত্ব সে অস্বীকার করতে পারতো না।।
হযরত আয়েশা (রাঃ) এই চার ধরনের পদ্ধতি কে উল্লেখ করে বলেন, এর সবগুলিই অবৈধ ও ঘৃণিত পন্থা।
আমাদের নবীজি (সঃ) এসব পন্থা চিরতরে বন্ধ করে দেন।
অতপর মুহাম্মদ (সঃ) সত্য সহকারে আবির্ভূত হয়ে জাহেলী যুগের সব বিবাহ প্রথা গুলি চিরতরে বন্ধ করে দেন। শুধু একটি মাত্র প্রথা চালু রাখেন, যা বর্তমানে প্রচলিত আছে।
আলোচ্য বিষয় থেকে কি বুঝা গেলো।জাহলী ষুগের নারী সমাজ তাদের ইজ্জত সম্নানের স্বাভাবিক মুল্যবোধ থেকে বঞ্চিত ছিলো।যেখানে স্বয়ং স্বামী স্বীয় স্ত্রীকে অন্য পুরুষের বীজ লাভের জন্য স্বেচ্ছায় প্রেরণ করতো,এর থেজে জঘন্য আর কি হতে পারে,
ভেবে দেখুন নারী জাতি তার ইজ্জত রক্ষার্থে জাহলী যুগের ধারনা কতখানি দৈন্যদশায় ছিলো।
পুরুষেরা মনে করতো মহরের বিনিময়ে স্ত্রী তার কাছে বিক্রি হয়ে গেছে।আর এসব কারনেই স্বামীর মৃতর পর স্ত্রী পরিত্যক্ত সম্পত্তিতে পরিনত হইতো।

# সেই কবে থেকেই নারী তুমি অবহেলিতো,তোমার মুক্তির পথ করে তোলা হয়েছে বিভ্রান্তিকর ও ভয়ানক।
তাই তোমাকেই সিন্ধান্ত নিতে হবে,তুমি কি গড্ডালিকার প্রবাহে ভেসে চলবে নাকি বীরাঙ্গনার সাহস নিয়ে মুক্তির রাজপথ।

০৯ মে ২০১৯/সময়ের কলম/হালিমা খাতুন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here