ফণীর দ্রুত শক্তি ক্ষয়,বাঁচল বাংলা ভেঙে পড়া ঘর গড়ে দেবে রাজ্য: মুখ্যমন্ত্রী

0
101

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা:: শুক্রবার ওড়িশায় অতি সক্রিয় ঘূর্ণিঝড় ফণীর তাণ্ডব চালানোর খবর মিলতেই আতঙ্কে কাঁটা হয়েছিল বাংলা। বিপর্যয় মোকাবিলায় সরকারি প্রস্তুতি ছিল যথেষ্ট। বেসরকারি উদ্যোগেও সাহায্যের জন্য প্রস্তুতি ছিল। কিন্তু যতটা শঙ্কা ছিল, বাংলায় ততটা প্রভাব ফেলেনি ফণী। তবে কয়েকটি জেলায় ঘরবাড়ির যেটুকু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বা ভেঙে গিয়েছে, সেইসব সরকার তৈরি করে দেবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিকে, এ রাজ্যে ফণীর প্রভাব কতটা পড়ল, দুর্যোগে কোনও বিপদ হল কি না, সেই সম্পর্কে খোঁজ নেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এসব জানতে তিনি ফোন করেন রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠিকে। রাজ্যপালও শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনায় হাজির হন ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত অবস্থা সরেজমিনে দেখতে। তবে বাংলার বিষয়ে খোঁজখবর নিতে প্রধানমন্ত্রী কেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি ফোন করলেন না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস মতো শুক্রবার রাতে এ রাজ্যে ঢোকার কথা ছিল ফণীর। সেই নির্ঘণ্ট ধরেই খড়গপুরের দিক দিয়ে রাত ১২টা নাগাদ তা হাজির হয়। তখনও ফণী ছিল তীব্র ঘূর্ণিঝড়। কিন্তু বাংলায় এসে তার দ্রুত শক্তিক্ষয় হতে থাকে। রাজ্যের বিস্তীর্ণ এলাকায় দাপুটে বৃষ্টি হলেও, ঝড়ের মারাত্মক ঝাপটা থেকে বেঁচে যায় বাংলা। পশ্চিম মেদেনীপুর পেরিয়ে হুগলি ও নদীয়া হয়ে শনিবার সকাল আটটা নাগাদ বাংলাদেশে ঢুকতে শুরু করে ফণী। কিন্তু ততক্ষণে তা তীব্র ঘূর্ণিঝড় থেকে সাধারণ নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ রাজ্য থেকে পাততাড়ি গোটায় ফণী। আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, বাংলাদেশ থেকে সেটি অসমের দিকে যাওয়ার কথা।
যেহেতু আবহাওয়া দপ্তরের তরফে অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছিল, তাই ফণী নিয়ে আগেভাগেই সতর্ক ছিল রাজ্য প্রশাসন। কন্ট্রোল রুম খোলা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষদের নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা এবং খাদ্য ও পানীয় সহ প্রয়োজনীয় জিনিসের জোগান রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। শনিবার তিনি বলেন, আপাতত সাইক্লোন বাংলাদেশের দিকে ঘুরে গিয়েছে। কিন্তু দুর্যোগ কাটলেও, তার রেশ থেকেই যায়। এ রাজ্যেও আগামী দু’-তিন দিন প্রভাব থাকবে। বিদ্যুতের পোল পড়ে গিয়েছে। ১২টি কাঁচা বাড়ি ভেঙেছে এবং প্রায় ৮০০টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত। সরকার সেইসব বাড়ি তৈরি করে দেবে। তিনি জানিয়েছেন, ফণীর আশঙ্কায় রাজ্য সরকার ৪২ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিয়েছিল। তাঁরা আবার পুরনো ঠিকানায় ফিরে যাবেন দু’-একদিনের মধ্যে। বিদ্যুৎ পরিষেবা যেখানে ব্যাহত হয়েছিল, তার বেশিরভাগই স্বাভাবিক হয়েছে। বাকি পরিস্থিতিও আগামী দু’দিনের মধ্যে স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি। তিনি বলেন, দীঘা, মন্দারমণি ও ডায়মন্ডহারবারকেও ক্ষতির হাত থেকে বাঁচিয়ে ইতিমধ্যেই আগের অবস্থায় ফেরানো হয়েছে।
রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে শনিবার রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠিকে ফোন করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এখানকার ক্ষয়ক্ষতির খোঁজ নেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী ট্যুইটারে জানিয়েছেন, তিনি ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক এবং রাজ্যপাল গণেশি লালের সঙ্গেও কথা বলেছেন। যেখানে পড়শি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর কথা হল, সেখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কেন কথা এড়িয়ে গেলেন মোদি, তা নিয়ে জল্পনা বেড়েছে। বিষয়টির নিন্দা করেছেন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়ও।
এদিনই কেশরীনাথ ত্রিপাঠি সুন্দরবন এলাকার পরিস্থিতির খোঁজখবর নিতে স্বয়ং হাজির হন কাকদ্বীপে। লট আটে গিয়ে নদীবাঁধ পরিদর্শন করেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। মধুসূদনপুরেও যান। কাকদ্বীপে ঘূর্ণিঝড়ের আশ্রয়কেন্দ্রটি পরিদর্শন করেন তিনি। আজ, রবিবার তাঁর পূর্ব মেদিনীপুরেও ক্ষয়ক্ষতি খতিয়ে দেখতে যাওয়ার কথা। অন্যদিকে, সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র জানিয়েছেন, প্রচারের পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের যাবতীয় সাহায্য করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে দলের কর্মীদের।
এদিকে, শনিবার রাতে যশবন্তপুর, ভাস্কো দা গামা এবং চেন্নাইমুখী তিনটি স্পেশাল ট্রেন হাওড়া থেকে চালানো হয়। আর দুপুরে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় ফেরি পরিষেবা শুরু হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here