নেপাল ট্র্যাজেডির ৪০ ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষতিপূরণ পাননি এখনো

0
129

১২ মার্চ, ভয়াবহ নেপাল ট্র্যাজেডির বছর পূর্তি। ২০১৮ সালের এই দিনে নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছেই বিধ্বস্ত হয় বাংলাদেশের ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি প্লেন।
ওই দুর্ঘটনায় পাইলট ক্রুসহ মোট ৫১ জন নিহত হন। ২০ জন প্রাণে বেঁচে গেলেও তাদের অনেকের আঘাত ছিল গুরুতর। আহতদের এখনো তাড়া করে সেই দুর্বিষহ স্মৃতি। এই দুর্ঘটনা বাংলাদেশি প্লেনগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা।

এ ঘটনার পর নিহত ও আহত যাত্রীদের মধ্যে ৩১ জনকে বিমা পরিশোধ বা ক্ষতিপূরণ দিলেও বাকি ৪০ জনের ক্ষতিপূরণ এখনো বুঝিয়ে দিতে পারেনি সংশ্লিষ্ট বিমা কোম্পানি ও এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ। বিভিন্ন জটিলতার কারণেই ৪০ জনের বিমার অর্থ পরিশোধ করতে দেরি হচ্ছে বলে জানান এয়ারলাইন্সটির এক কর্মকর্তারা।

২০১৮ সালের ১২ মার্চ বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা ৫১ মিনিটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৭১ জন আরোহী নিয়ে নেপালের ত্রিভুবন আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে যায় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিএস-২১১ ফ্লাইটটি। নেপালে পৌঁছানোর পর স্থানীয় সময় ২টা ২০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় ৩টা ৫ মিনিট) বোম্বাডিয়া কোম্পানির তৈরি ড্যাশ ৮ কিউ ৪০০ মডেলের বিমানটি বিধ্বস্ত হয়।

ওই দুর্ঘটনায় বাংলাদেশের ২৭ জন, নেপালের ২৩ জন ও চীনের একজন নাগিরকসহ মোট ৫১ জন নিহত হন। আর আহতদের মধ্যে মালদ্বীপের একজন, নেপালের ১০ জন ও বাংলাদেশর ৯ জন। ক্যাপ্টেন আবিদ সুলতান ছিলেন ওই ফ্লাইটের পাইলটের দায়িত্বে। তার সঙ্গে কো-পাইলট হিসেবে ছিলেন পৃথুলা রশিদ। পাইলট, ক্রু ও যাত্রী মিলে ৫১ নিহত হন।

এদিকে, দুর্ঘটনার প্রায় ১০ মাস পর চলতি বছরের ২৭ জানুয়ারি নেপাল দুর্ঘটনার তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে দেশটির কর্তৃপক্ষ। তদন্ত প্রতিবেদনে কাঠমান্ডুতে ইউএস বাংলার বিমান দুর্ঘটনার জন্য পাইলটের মানসিকভাবে অস্থির অবস্থায় দিকভ্রান্ত হয় এবং পরিস্থিতি সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণার অভাবকে দায়ী করা হয়। এছাড়া বিমানটি অবতরণের সময় কন্ট্রোল টাওয়ার ও বিমান কর্মীদের মধ্যে কিছু বিভ্রান্তিকেও সম্ভাব্য কারণগুলোর অংশ বলে মনে করছে
কমিটি।

তবে চূড়ান্ত এ প্রতিবেদনকে একপেশে বলছে এয়ারলাইন্স কর্তৃপক্ষ। তারা বলছে, এ তদন্ত কমিটিতে আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন, বিমান প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বোম্বাডিয়ার, বাংলাদেশ সিভিল এভিয়েশন অথিরিটি ও ইউএস-বাংলার কোনো প্রতিনিধি রাখা হয়নি। ফলে এ তদন্ত প্রতিবেদন একপেশে বলে প্রত্যাখান করেছে ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ।

তথ্যমতে, বিধ্বস্ত হওয়া ইউএস-বাংলা উড়োজাহাজের ইন্সুরেন্সের লোকাল এজেন্ট সাধারণ বিমা ও সেনা কল্যাণ ইন্সুরেন্স। সেনা কল্যাণ ইন্সুরেন্স কোম্পানি পুনঃবিমা অংশের অর্ধেক সাধারণ বিমা করপোরশেন ও বাকি অংশ পুনঃবিমা ব্রোকার কে এম দাস্তর অ্যান্ড কোংয়ের মাধ্যমে বিদেশে পুনঃবিমা করে। সাধারণ বিমা করপোরেশনও কে এম দাস্তর অ্যান্ড কোংয়ের মাধ্যমে বিদেশে পুনঃবিমা করে। ইউএস-বাংলার ধ্বংস হওয়া ওই বিমানটি বৈদেশিক নেতৃস্থানীয় পুনঃবিমাকারী লন্ডনভিত্তিক এক্সএল ক্যাটলিন ও অন্যান্য পুনঃবিমাকারীর সঙ্গে পুনঃবিমা করা আছে। সেই অনুযায়ী মূল কোম্পানি অর্থ দিলে লোকাল ওই দুই কোম্পানি অর্থ পরিশোধ করে।

ইন্সুরেন্সের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী সাকশেসন সার্টিফিকেট দিতে হয়। যাদের সাকশেসন সার্টিফিকেটসহ সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে, তারাই বিমার অর্থ পেয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো।

জানা যায়, বিমার আর্থিক ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করা হয়েছে ৩১ জনকে। এদের মধ্যে বাংলাদেশি নিহত ১৯ জনের পরিবার, আহত ৬ জনের পরিবার ও নেপালের আহত ৬ জনের পরিবার। নিহত যারা হয়েছেন, তাদের পরিবার আর্থিক ক্ষতিপূরণ পেয়েছে প্রায় ৪৩ লাখ টাকারও বেশি। আর আহতরা সেই অর্থের চেয়ে কিছুটা কম অর্থ পেয়েছেন। সেনাকল্যাণ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের পক্ষ থেকে সেনাকল্যাণ সংস্থার চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল ফিরোজ হাসান বিভিন্ন সময়ে এসব চেক হস্তান্তর করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, চীন, মালদ্বীপ, নেপাল ও বাংলাদেশের বাকি ৪০ জন নিহত ও আহতদের পরিবারকে এখনো বিমার অর্থ পরিশোধ করা হয়নি। এ লক্ষ্যে ইউএস-বাংলা কর্তৃপক্ষ এফএম এসোসিয়েটসকে ল ফার্ম হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে। কিভাবে সেই অর্থ পরিশোধ করা হবে সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে অপরদিকে নেপালের নিহত ২৩ জনের পরিবার ও আহত একজনের পরিবার মিলে একটি সমিতি গঠন করে ইন্সুরেন্স ফ্রেম করেছে বলে জানা গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here